কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার খোকসায় মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক মাদক কারবারিসহ দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে চলা দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলায় আরও অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মাদক বিক্রি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামের দুজনকে আটক করে থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজনই নিজের বাড়ি ছেড়ে পাশের গ্রাম দেবিনগরে পালিয়ে ছিলেন বলে পরিবার দাবি করেছে।
নিহতরা হলেন- ওসমানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) ও একই গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। পুলিশ বলছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে এই হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন ছালিম হোসেন গ্রুপের সদস্য। স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বিকেল থেকে দুই গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিরোধের জের ধরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিন্টু চৌকিদারের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ছালিমের অনুসারী ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় মুল্লুক মন্ডলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলার দাবি, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করানোর প্রস্তাব দেন। তারা রাজি না হওয়ায় একমাস আগে তাদের বাড়ি ঘর ভেঙে উচ্ছেদ করা হরা হয়। তার স্বামী প্রাণ ভয়ে দেবিনগর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে সেখানে এ হামলা করেন।
তিনি আরও জানান, ফারুকরা তিনজন ঘরে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন। এ সময় মিন্টু চৌকিদারের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। তার স্বামী ও অন্যরা ঘর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা ফারুককে বাড়ির উঠানে ও অন্যজনকে পুকুরের পাড়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। সন্ত্রাসীরা দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চলে যায়। অপর নিহত আব্দুলের মা ময়না খাতুন জানান, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তার ছেলে পাশের গ্রামে পালিয়ে থাকতেন। সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীরা প্রথমে তার স্বামী আতিয়ারকে কুপিয়ে জখম করেন। এরপর রাতের আঁধারে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে, অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।









































