মোংলা প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েকদিন মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিরাজ করছে বৈরী আবহাওয়া। অব্যাহত ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল নদ-নদীর কারণে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজ থেকে আমদানি-রপ্তানির পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার জনজীবন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্র, অলস সময় কাটাচ্ছেন ট্যুরিস্ট বোটের মালিক ও কর্মচারীরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত মোংলা বন্দরের চ্যানেলে সার, খাদ্যশস্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে আটটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করে ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার দুপুরেও মোংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে। সেইসঙ্গে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত শত শত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, শেলা নদীসহ উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছে। জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে টিকতে না পেরে জাল-দড়ি গুটিয়ে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ঘাটে অবস্থান করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত তারা পুনরায় সাগরে ফিরতে পারছেন না।
অন্যদিকে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মোংলা পৌর শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে অনেক এলাকায় হাঁটাচলা ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের বাসিন্দারা।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন খাতেও। সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ট্যুরিস্ট বোটগুলো ঘাটে অলসভাবে পড়ে রয়েছে। পর্যটক না থাকায় বোট মালিক, মাঝি, কর্মচারী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে কোনো ট্রিপ না থাকায় তাদের আয় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন উর রশিদ জানান, লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সমুদ্রবন্দর, নৌযান এবং উপকূলবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










































