Home Lead ‘অনার কিলিং’র শিকার স্কুলছাত্রী, ঘাতক মা সীমা গ্রেফতার; পিতা আকাশকে খুঁজছে পুলিশ

‘অনার কিলিং’র শিকার স্কুলছাত্রী, ঘাতক মা সীমা গ্রেফতার; পিতা আকাশকে খুঁজছে পুলিশ

775


শামিম শিকদার।।
খুলনা মহানগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৭) হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটেছে চরম এক নৃশংস বাস্তবতায়। লোকলজ্জা আর পারিবারিক সম্মানের বলি বা ‘অনার কিলিং’-এর শিকার হতে হয়েছে ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই ছাত্রীকে। আর এই নির্মম খুনের সাথে খোদ নির্জনার নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতা জড়িত বলে অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।


ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. সাত্তার শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের মা সীমা আক্তারকে আটক দেখানো হয়েছে। তবে নিহতের পিতা আলীম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অনুসন্ধানে ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ধরে দিনকয়েক আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল স্কুলছাত্রী নির্জনা। পিতা মো. আলীম হোসেন আকাশ ও মা সীমা আক্তার অনেক খোঁজাখুঁজির পর নির্জনাকে প্রেমিকের কাছ থেকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা বসুপাড়ার বাসায় ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু বাসায় ফেরার পর থেকেই নির্জনা নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অনড় থেকে চরম বেসামাল আচরণ করতে থাকে।


পরিবারের অমতে দুটি বিয়ে করা ও বারবার প্রেমিকের কাছে চলে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মা-বাবা। পারিবারিক সম্মান ও লোকলজ্জার হাত থেকে বাঁচতে তারা নিজেরা মিলেই নিজ ঘরের ভেতর নির্জনাকে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নিখুঁত পরিকল্পনা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে গভীর রাতে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে ফেলে দিয়ে আসেন।


নাটক সাজিয়েও পার পেলেন না ঘাতক মা: বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার মর্গে গিয়ে প্রথম নাটকটি সাজান মা সীমা আক্তার। তিনি সাংবাদিকদের কাছে মেয়ের দুটি বিয়ে ও চিঠি লিখে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে পুরো দায় নির্জনার সাবেক স্বামী ও প্রেমিকের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লাশ শনাক্ত করার পরপরই পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে তিনি ও তার স্বামী আকাশ উধাও হয়ে যান এবং সোনাডাঙ্গার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার থেকেই পুলিশের মনে ‘অনার কিলিং’ বা পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের যে জোরালো সন্দেহ দানা বেঁধেছিল, শুক্রবার মায়ের আটকের মধ্য দিয়ে তা সত্যে পরিণত হলো।


খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জনসমক্ষে উন্মোচন করা হবে। পলাতক পিতাকে গ্রেফতারে মাঠে অভিযানে আছেন।


এর আগে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। গ্রেফতারকৃত মাকে ইতিমধ্যেই কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও মায়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


নিজের জন্মদাত্রী মা ও পিতার হাতে স্কুলছাত্রীর এভাবে ‘অনার কিলিং’-এর শিকার হওয়ার লোমহর্ষক তথ্যে গোটা খুলনা নগরীজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিস্তব্ধতা ও ধিক্কারের ঝড় বইছে। সচেতন মহল ঘাতক বাবা-মায়ের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।