Home আঞ্চলিক ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা, সাতক্ষীরায় বিপর্যস্ত জনজীবন

ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা, সাতক্ষীরায় বিপর্যস্ত জনজীবন

6

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।


সাতক্ষীরায় রাতভর টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌরসভাসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ এবং কৃষকরা।

রাতভর টানা বর্ষণে পৌরসদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, একাধিক হাইস্কুলসহ একাধিক শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় পানি জমে গেছে। বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাঝখোলা এলাকার বাসিন্দারা। কারণ এই এলাকার রাস্তাঘাটে এখন হাঁটুসমান পানি রয়েছে। ফলে ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, টয়লেট, স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।


সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের বাসিন্দা সবুর গাজী বলেন, বছরের পর বছর ধরে সাতক্ষীরার মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কাজই ঠিকমতো করেন না। সব কাজে তারা অনিয়ম করে থাকে। আমরা ২০ বছর এখানে বসবাস করছি, আগে হালকা বৃষ্টিতে তলিয়ে যেত আর এখনো তাই যায়। তাহলে উন্নতিটা হলো কয়। এখন বলেন, নতুন সরকার আনছে কাজ হবে। আল্লাহ জানে আদৌ কাজ হবে কি না।


মাঝখোলা গ্রামের গৃহবধূ শাহানারা বেগম বলেন, ১০ বছর ধরে এমন হয়, কিন্তু কোনো সমাধান নেই। রান্না ঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল নষ্ট, বন্ধ হয়ে যায় খাওয়া-দাওয়া। সাপ-মাকড় ঢুকে ঘুমাতে পারছি না। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় থাকতে হচ্ছে।

সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, পানির কারণে কলেজে যেতে পারি না। হাঁটু পানি পার হয়ে যেতে আমাদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই সময়টা খুব দুর্ভোগে থাকতে হয়। টিউবওয়েল ডুবে গেছে, পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে কাজ হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকের মতো খেটে খাওয়া মানুষ। ভ্যানচালক ভোলা জানান, বৃষ্টির জন্য ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও নেই। প্রতিদিনের চাল-ডাল কেনা বন্ধ। এনজিওর কিস্তি কীভাবে দেব, সেই চিন্তায় আছি।

একইভাবে দিনমজুর আখতারুল ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে ঘরে বসে আছি। কোনো কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খুব সমস্যায় পড়ে গেছি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কাল রাতভর বৃষ্টি হয়েছে ১৪৬ মি.মি। এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল নদী কাটা হচ্ছে। ফলে আমি মনে করি, এবার হয়তো শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল ড্রেন গুলো সচল করে প্রাণসায়ের খালে সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তখন আশা করি, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।