Home খেলাধুলা বিশ্বকাপের আনন্দ ছড়ানো ত্রাণকর্মী ইসরায়েলি হামলায় নিহত, শোকস্তব্ধ গাজা

বিশ্বকাপের আনন্দ ছড়ানো ত্রাণকর্মী ইসরায়েলি হামলায় নিহত, শোকস্তব্ধ গাজা

1


স্পোর্টস ডেস্ক।।

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও যিনি গাজাবাসীর মুখে ক্ষণিকের হাসি ফুটিয়েছিলেন, সেই প্রিয় মানুষকে হারিয়ে আজ শোকস্তব্ধ ফিলিস্তিন। গাজায় বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় দেখানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়ানো প্রবীণ ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের আগের রাতে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি ট্যাক্সি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় আল-ওয়াহিদি ছাড়াও ১০ ও ৮ বছর বয়সী দুই ভাইবোনসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

৫৭ বছর বয়সী আল-ওয়াহিদি ছিলেন গাজায় ‘মিশরীয় ত্রাণ কমিটি’র জনসংযোগ পরিচালক। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরানো, রাস্তাঘাট পরিষ্কার এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়শিবির তৈরির কাজে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। ফিলিস্তিনি হয়েও মিশরের এই সরকারি ত্রাণ সংস্থার লজিস্টিকস সামলাতেন তিনি। একই সঙ্গে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংস যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজাবাসীর বিনোদনের জন্য জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটবল ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।

তার এই অকাল প্রয়াণে গাজাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আল-ওয়াহিদির ছেলে ফাওয়াজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার বাবা যুদ্ধবিধ্বস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের মুখে একটুখানি আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। তাঁবু আর ধ্বংসাবশেষের মাঝেই যেন সবাই খেলা দেখতে পারে, সেই ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন।’

গত বুধবার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে আল-ওয়াহিদির জানাজা সম্পন্ন হয়। ফিলিস্তিন ও মিশরের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার মরদেহ যখন দাফন করা হচ্ছিল, তখন উপস্থিত সবার চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা থামেনি। সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তথাকথিত এই ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকেই এ পর্যন্ত অন্তত ১,০৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই নির্মম ও জেনোসাইডাল যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩,১১৮ জনে।