স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান প্রশাসকের বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারির দীর্ঘ দিন পার হলেও অভিযুক্ত দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে এখনও চেম্বারের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে সাধারণ সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রশাসক (অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার-সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম-কে দুই কর্মকর্তাকে অব্যহতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর চুক্তিভিত্তিক সচিব নূর রুকসানা বানু এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (এস্টেট) জনাব বিশ্বরূপ সরকারের বিষয়ে নিয়োগ বিধি ও নিয়োগপত্রের শর্তাবলী অনুসারে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চেম্বারের যাবতীয় কার্যক্রম হতে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনাটি মূলত চেম্বার নির্বাচনের শুদ্ধতা রক্ষা এবং কোনো কর্মকর্তা যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে প্রশাসকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ওই দুই কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তারা এখনো বহাল তবিয়তে চেম্বারের দাপ্তরিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম দেখভাল করছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রশাসক আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, ওটা যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেটা করতেই হবে এমন নয়। করলে করলাম, না হলে নয় এই রকম।

তবে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন, করলে করলাম, না হলে নয় – এই টাইপের হয় কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে ওই দুইজনের স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হয়। তাদের বাদ দিলে আমার রেজ্যলেশ করে অন্যদের দায়িত্ব দিতে হবে, তাই বাদ দেওয়া হয়নি। আমি আসলে আর্থিক কাজে জড়াতে চাচ্ছিলাম না।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট আদেশ থাকার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া প্রশাসকের এক ধরণের “স্বেচ্ছাসরিতা” এবং এটি সরাসরি সরকারি আদেশ লঙ্ঘনের শামিল। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে অবিলম্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক চুক্তিভিত্তিক সচিব নূর রুকসানা বানু এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বিশ্বরূপ সরকারকে চেম্বারের কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভোটাররা।
খুলনা চেম্বারের একজন সাধারণ ভোটার ও ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যখন একটি লিখিত আদেশ দেয়, তখন সেটি মেনে চলা প্রশাসকের আইনি দায়িত্ব। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা থেকেই তো মন্ত্রণালয় এই দুজনকে অব্যহতির নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও তারা চেয়ারে বসে আছেন। এতে আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছি।
চেম্বারের আরেকজন সদস্য এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ছগির উদ্দিন আহমেদ ক্ষোভের সাথে জানান, সরকারি আদেশ অমান্য করে ওই দুই কর্মকর্তাকে এখনো বহাল রাখা স্বেচ্ছাসরিতা। তারা পদে বহাল থাকলে সাধারণ প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাবেন না। আমরা অবিলম্বে এই আদেশের বাস্তবায়ন চাই, অন্যথায় খুলনার ব্যবসায়ী সমাজ এই নিয়ে আন্দোলনে নামবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৪ বছর ধরে কোন নির্বাচন ছাড়াই দখল ছিল খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই)। সেই বাধ ভেঙে এবার নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ২২ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ জুন ভোটার তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।








































