বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুন্দরবনে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারে জড়িত ১৫০ জন চিহ্নিত শিকারীর একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছে বন বিভাগ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তালিকাটি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তবে নজরদারি ও অভিযান জোরদার হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বন্যপ্রাণী শিকার। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দাবি, গত এক বছরে বনরক্ষীদের কঠোর টহল ও অভিযানের ফলে বন অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
পূর্ব বন বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ফুট পেট্রোলিংসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ৪৭৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ২৪১টি বন আইনের মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ৩৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানগুলোতে সুন্দরবনের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পেতে রাখা ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৩ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জীবিত অবস্থায় ১৭টি হরিণ এবং একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় জব্দ করা হয় ২৪৯ কেজি হরিণের মাংস, ৪৪৮টি ট্রলার, ১০০টি নৌকা, ৮ হাজার ৩৮১টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার চারু, ৩০০ ফুট মাছ ধরার জাল, ২১৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ৭২৪ কেজি বিষ দিয়ে ধরা মাছ, ৯৬ বোতল কীটনাশক, পাঁচ প্যাকেট বিষাক্ত পাউডার, বিষ প্রয়োগে ধরা চিংড়ি শুকিয়ে তৈরি ২২ বস্তা শুঁটকি এবং অবৈধভাবে আহরিত ১ হাজার ৬৬ কেজি কাঁকড়া।
বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১৫০ জনকে চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে নিয়মিত ফুট পেট্রোলিং, টহল ও অভিযানের কারণে আগের তুলনায় বন অপরাধ অনেকটাই কমেছে। তবে দুর্গম এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনো বন্যপ্রাণী শিকার পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো গেলে বন অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।











































