স্পোর্টস ডেস্ক।।
নির্ধারিত সময়ের খেলা ততক্ষণে শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের খেলাও প্রায় শেষ। এমন সময় দেখা মিলল ক্ষিপ্র গতির মেসির। দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। এ সময় গোলের জন্য মেসির নেওয়া প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক রুখে দিলেও ফিরতি বলে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বাম পায়ের নিখুঁত শটে অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন।
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ও বিশ্বকাপে ১৮তম গোল করেই উদযাপনে মেতে ওঠেন মেসি। দৌড়ে যাওয়ার সময় গোলবারের পেছনে এক সাংবাদিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরার আগে সেই সাংবাদিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্যরকম এক উদযাপনে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার এই ফুটবল জাদুকর।
আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে উদযাপন করা ওই সাংবাদিককে সৌভাগ্যবান বলছেন মেসির ভক্ত-সমর্থকরা। ওই সাংবাদিক নিজেও স্বীকার করছেন, মেসির সঙ্গে গোল উদযাপন তার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি।
মেসির সঙ্গে গোল উদযাপন করা সেই সাংবাদিকের নাম হোয়াকিন ব্রুনো। তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও ব্রডকাস্ট চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসে কাজ করেন।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসে লেখা ছোট্ট কলামে মেসির সঙ্গে গোল উদযাপনের অনুভূতি জানান ব্রুনো। সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সাংবাদিক বলেন, ‘আমি এখনও কাঁপছি, যেন ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছি না। এটি সত্যিই কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ ছিল। আর আমার স্নায়ুগুলো তখন টানটান উত্তেজনায় ছিল। আমি প্রচণ্ড রকমের নার্ভাস ছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি গোলপোস্টের পেছনে একা ছিলাম, কারণ গ্যাস্টন (এদুল) ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য মিক্সড জোনে চলে গিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল ৯৫তম মিনিট, যখন সেই নাটকীয় মুহূর্তটি ঘটল। প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজ শট নিয়েছিলেন এবং শ্লাগার সেটি ঠেকিয়ে দেন। এরপর মেসি ফিরতি বলটি পেয়েছিলেন। কিন্তু গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ তার শট আটকে দেয়। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ‘দ্য ফ্লি’ (মেসি) আর ভুল করেননি। আমি মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিলাম এবং অন্য যেকোনো ভক্তের মতো আমি পাগলের মতো চিৎকার করছিলাম।’
ওই সাংবাদিক বলেন, ‘তারপর দেখলাম লিও আমার দিকে আসছে। আমি তখনও চিৎকার করছিলাম আর সে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। সে এগিয়ে এসে আমাকে হাই ফাইভ দিল। একজন আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্ত এবং মেসির একনিষ্ঠ অনুরাগী হিসেবে আমি এখন যা অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি এই মুহূর্তটি এবং এই ছবিটি সারাজীবনের জন্য আমার সঙ্গে বহন করব।’
এর আগে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শট নিয়ে মিস করেন মেসি। পেনাল্টি মিস করলেও প্রথমার্ধে দারুণ এক গোলে দলকে লিড এনে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই গোলের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় গোলের দেখা পান তিনি।











































