Home Lead ত্রাণ তহবিলের নামে ৩ কোটি টাকার পণ্য পাচার, গ্রেফতার ৩

ত্রাণ তহবিলের নামে ৩ কোটি টাকার পণ্য পাচার, গ্রেফতার ৩

0

যশোর অফিস।।


প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মালামাল সরবরাহের নামে বেনাপোল কাস্টম্‌সের গুদাম থেকে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য পাচার চেষ্টার সময় কাস্টম্‌সের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় পণ্য পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও এক সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২২ জুন) দিবাগত গভীর রাতে বেনাপোল বাজার থেকে একটি কাভার্ডভ্যান বোঝাই পণ্যসহ তাদের আটক করে বিজিবি।

আটক করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৮টি শাড়ি, ৩৩ হাজার ২২২ পিস কসমেটিকস পণ্য, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না এবং ৬৩৪টি থ্রিপিস। কাস্টমসের নিজস্ব গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ এসব পণ্য পাচারের ঘটনায় সচেতন ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি, আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং তার সহযোগী সিপাহি সাগর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, বিভিন্ন সময় জব্দ করা অবৈধ মালামাল কাস্টম্‌সের গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পরে এসব পণ্য নিলামে ওঠে অথবা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানো হয়। গত ২৪ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথক দুটি চিঠিতে বেনাপোল কাস্টম্‌সের গুদামে বাজেয়াপ্ত পণ্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে একটি চিঠিতে ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রিপিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল ও ৮টি ওড়না পাঠানোর দায়িত্ব দেয়া হয় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জিকে। অপর একটি চিঠিতে ৬৪৮টি শাড়ি, ১০৩টি চাদর, ৭১টি থ্রিপিস এবং ৬২টি লুঙ্গি পাঠানোর দায়িত্ব দেয়া হয় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরীকে।

নির্দেশনার প্রায় এক মাস পর সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে ত্রাণ পণ্য পাঠানোর নামে দুটি কাভার্ডভ্যানে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী উঠিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি বৈধ কাগজপত্র না দেখাতে পারায় একটি কাভার্ডভ্যানসহ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করে। আটকের খবর পেয়ে অপর কাভার্ডভ্যানটি আর কাস্টমস এলাকা থেকে বের করা হয়নি। পরে সেটি তল্লাশি করে সেখানেও ঘোষণার চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাস্টম্‌সের গুদামে আটক পণ্যের হিসাব মেলালে পণ্য চুরির বড় ধরনের তথ্য উদ্ঘাটন হতে পারে।

বেনাপোল কাস্টম্‌সের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, ‘কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় কাস্টমস বহন করবে না। প্রাথমিক তদন্তে পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এদিকে বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচারের ঘটনায় ৪৩ জনের নামে মামলার উত্তাপ কাটতে না কাটতেই নতুন করে কাস্টমস হাউসের নিজস্ব গুদাম থেকে ৩ কোটি টাকার পণ্য পাচারের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কাস্টম্‌সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাস্টম যদি নিজেরাই পণ্য পাচার করে, তবে আর নিরাপত্তা থাকল কোথায়? এতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ যেন রক্ষকই ভক্ষক। কাস্টম্‌সের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে শুল্ক হারানোর খেসারত গুনতে হচ্ছে এনবিআরকে। আর কালো টাকার পাহাড় গড়ছে দুর্নীতিবাজরা। যার প্রভাবে চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয় কমেছে কাস্টম্‌সের। দায়িত্বশীল কাস্টম কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে আগামীতে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা রাখছি।’

বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আব্দুল হাই বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টার দিকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনজনকে গ্রেফতার করে বিজিবি সদস্যরা পুলিশে সোপর্দ করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন কাস্টম্‌সের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে বেনাপোল কাস্টম্‌সের ভল্ট ভেঙে ১৯ কেজি ৩১৮ গ্রাম স্বর্ণের বার চুরির ঘটনায় কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তার নামে মামলা হয়েছিল।