।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
অপপ্রচার, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও শিষ্টাচারবহির্ভূত নোংরা রাজনীতির প্রতিবাদে খুলনা মহানগরীর ৫টি থানায় একযোগে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউন ও পথসভা করেছেন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) বিকেল থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজপথের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন দলটির সর্বস্তরের হাজারো নেতাকর্মী। পৃথক পৃথক পথসভায় নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা অপপ্রচার ও নাশকতার মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, রাজপথেই তাদের ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দেওয়া হবে। বিক্ষোভ পরবর্তী বিভিন্ন পথসভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, গুজব এবং সংবেদনশীল ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করে সমাজে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। শুধু তাই নয়, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন রাজপথের দল। রাজপথেই অতীতে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হয়েছে। কোনো মহল যদি আন্দোলনের নামে দেশে নাশকতা, সহিংসতা কিংবা কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় বিএনপি রাজপথে ‘পাহারাদারের’ ভূমিকা পালন করবে। ৫ থানার পৃথক বিক্ষোভ ও সাংগঠনিক তৎপরতা:
সদর থানা বিএনপি: অপপ্রচারের প্রতিবাদে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদের নেতৃত্বে খুলনা রেল স্টেশন থেকে একটি বিশাল মোটরসাইকেল মিছিল বের হয়। মিছিলটি সদর থানার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাত সাড়ে ১২টায় সাতরাস্তার মোড়ে এক পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় শরিফুল ইসলাম টিপু, মো. নাসির উদ্দিনসহ সদর থানা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি: সোনাডাঙ্গা থানার প্রতিটি ওয়ার্ডে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই কর্মসূচির সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
খালিশপুর থানা বিএনপি: খালিশপুর থানার ৮টি ওয়ার্ডে সোমবার বিকেল থেকে ধারাবাহিক মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং বাকি একটি ওয়ার্ডে মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ সম্পন্ন করেন নেতাকর্মীরা। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মাদ আলী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস।
দৌলতপুর থানা বিএনপি: সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী দৌলতপুর থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেনসহ থানা ও ওয়ার্ডের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। খানজাহান আলী থানা বিএনপি: খানজাহান আলী থানার প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামেন। থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
রাজপথে স্বেচ্ছাসেবক দলের শক্ত অবস্থান: মহানগরীর সদর, সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুরসহ বিভিন্ন থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল ও সোনাডাঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবের যৌথ পরিচালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুনতাসীর আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক টিটু, সিফাত আহমেদ রিকি, মনজুর শাহীন রুবেল ও মিরাজ শাহীন শুভসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

যুবদলের বিশাল মিছিল: এদিকে, খুলনা মহানগর যুবদলের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুজ্জামান, আতিক আল হাসান মিন্টু ও শফিকুল ইসলাম শফিক। মিছিলে মহানগরী, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।








































