স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আজ ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচে জোড়া গোল করে ফরাসিদের জয়ের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে অবধারিতভাবেই উঠে এলো লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ। তবে আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না এমবাপ্পে।
তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমি যদি মেসির অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতাম, তবে আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হতো।’
ইরাকের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পাওয়ায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ককে নিয়ে কথা বলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচের আগে অবশ্য অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেছিলেন মেসি।
মেসির গোল করার সহজাত অভ্যেস নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, ‘লিও সবসময়ই গোল করে। সে আগেও করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মেসি কী করছে, আমি যদি সারাক্ষণ সেদিকেই তাকিয়ে থাকতাম, তবে আমার পরিশ্রমের মাত্রা আরও বাড়াতে হতো।’
‘অন্য কে কী করছে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার সবটুকু মনোযোগ কেবল দলের জয়ে অবদান রাখার ওপর।’
আজকের ম্যাচের মধ্য দিয়ে পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ড ফ্রান্সের জার্সিতে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করলেন। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা এখন ১৬টি। এই তালিকায় তিনি মেসির চেয়ে মাত্র ২ গোলে পিছিয়ে আছেন এবং স্পর্শ করেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। এই বিশ্বকাপের আগে ক্লোসাই ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
আসরের প্রথম দুই ম্যাচে জয় এবং ব্যক্তিগতভাবে দুই ম্যাচেই জোড়া গোল করতে পেরে উচ্ছ্বসিত এমবাপ্পে। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দারুণ বোধ করছি। যেকোনো ফুটবলারের জন্য বিশ্বকাপই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সেরা মৌসুম কাটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জানুয়ারিতে বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েছিলাম, তবে আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে সেরা ছন্দে ফেরার লড়াই চালিয়ে গেছি যাতে এখানে (বিশ্বকাপে) নিজেকে নিংড়ে দিতে পারি।’
ম্যাচ চলাকালীন ফিলাডেলফিয়ায় প্রবল ঝড়ের কারণে খেলা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘রাতটা ছিল বেশ দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর। আমাদের জন্য এটি ছিল একটি পরীক্ষা। ড্রেসিংরুমে বসে থেকে মনোযোগ ধরে রাখা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং।’
আলাপচারিতার শেষভাগে এমবাপ্পে বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো আমাদের বন্দি থাকতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ম্যাচের আবহে থাকা অনেক কঠিন কাজ। আমরা শতভাগ চেষ্টা করেছি খেলায় মনোনিবেশ করতে। পরিস্থিতি জটিল হলেও দিনশেষে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত জয় ছিনিয়ে নিতে পেরেছি।’











































