অনলাইন ডেস্ক।।
ওমান উপকূলের কাছে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে টহল দেওয়ার সময় একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনার পর দুই মার্কিন সেনা সদস্যকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি সারফেস ড্রোন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স জানান, “একটি মার্কিন নৌবাহিনীর সারফেস ড্রোন পানির মধ্যে থাকা ওই দুই সেনা সদস্যকে শনাক্ত করে উদ্ধার করে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ছিল নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের টাস্ক ফোর্স ৫৯। এই ইউনিটটি নৌবাহিনীর প্রথম কার্যকরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ড্রোনভিত্তিক টাস্ক ফোর্স।
দুই ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুই সেনা সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানায়।
এআই ও ড্রোন ব্যবহারে নতুন দৃষ্টান্ত
টাস্ক ফোর্স ৫৯ চালু করা হয়েছিল ২০২১ সালে। এই ইউনিটে চালকবিহীন নৌযান ও বিভিন্ন ধরনের ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আধুনিক যুদ্ধ ও নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই বাহিনী গঠন করা হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর মতে, এই উদ্ধার অভিযান ড্রোন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের একটি উদাহরণ।
ট্রাম্পের বক্তব্য
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হেলিকপ্টারের পাইলটরা নিরাপদে আছেন এবং কেউ আহত হননি।
তিনি বলেন, “পাইলটরা ভালো আছেন, কেউ আহত হয়নি।”
ইরান সংঘাতের পর প্রথম অ্যাপাচি বিধ্বস্ত
মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক জলসীমায় নজরদারি ও সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
হেলিকপ্টারটি কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর পেছনে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে- তা তদন্তের পর জানা যাবে। সূত্র: সিএনএন











































