যশোর অফিস।।
যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজের উপজেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিলেন।
এদিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগে প্রবীণ এই সাংবাদিককে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন উপজেলার অর্ধশতাধিক সাংবাদিক।
বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাব, শার্শা প্রেসক্লাব, প্রেসক্লাব বেনাপোল, সীমান্ত প্রেসক্লাব ও উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারের ওপর একটি গুরুতর আঘাত। এ ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আসাদুজ্জামান আসাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, ‘আসাদুজ্জামান আসাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। সম্প্রতি সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড ও নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ ওঠায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’
তবে ওসির এই দাবি অস্বীকার করে হাজতে থাকা সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। তবে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল আমি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছি। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরের পর বর্তমানে আমি বাড়িতেই থাকতাম এবং পুরোপুরি সাংবাদিকতায় যুক্ত আছি। আমি কোনো প্রকার দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। গত রাতে পুলিশ মামলার কথা বলে আমাকে ধরে নিয়ে আসে। আমি বর্তমানে রাজনীতি করি না জানালেও তারা শোনেনি।’
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, বিভিন্ন ধরনের অপরাধী ও মামলার আসামীরা এলাকায় অবস্থান করে অপরাধে সক্রীয় রয়েছেন। পুলিশের সামনে তারা চলাফেরা করলেও তাদের না ধরে অনেক নিরাপরাধ মানুষ পুলিশ হয়রানির অভিযোগ তুলেন।









































