Home আলোচিত সংবাদ বিশ্বকাপের উন্মাদনায় জমে উঠেছে জার্সির বাজার

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় জমে উঠেছে জার্সির বাজার

6

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে রাজধানীর ক্রীড়াপণ্য বাজারে বইতে শুরু করেছে উৎসবের আমেজ। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রিয় দলের জার্সি কিনতে রাজধানীর গুলিস্তানের টুইন টাওয়ার মার্কেটে ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ব্যবসায়ীদের ভাষায়, জার্সির বাজারে এখন যেন ‘ঈদের হাওয়া’ বইছে।

আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা ওঠার আগে থেকেই দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়াসামগ্রীর পাইকারি বাজার টুইন টাওয়ার মার্কেট ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বয়সী সমর্থকরা প্রিয় দলের জার্সি সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানেই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের রঙিন জার্সির সমাহার। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সির।

জার্সি বিক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, “বিশ্বকাপের বাজার এখন অনেকটা ঈদের বাজারের মতো। চার বছর পর এই আয়োজন হওয়ায় ক্রেতার চাপও অনেক বেশি। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দলের জার্সিই সমানতালে বিক্রি হচ্ছে।”

স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ইকরাম জানান, চীনে তৈরি প্লেয়ার ভার্সনের জার্সি ৬০০ টাকা এবং থাইল্যান্ডে তৈরি জার্সি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ জার্সির পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগালের জার্সিরও ভালো চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস ম্যানুফেকচারার অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির হোসেন বলেন, সাধারণ জার্সি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্যান ভার্সন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং প্লেয়ার ভার্সন ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর আবারও বাজারে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে।

শুধু মার্কেটেই নয়, গুলিস্তান জাতীয় স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফুটপাতেও চলছে জমজমাট জার্সি বিক্রি। দেশীয় কারখানায় তৈরি সাধারণ মানের জার্সি ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং শিশুদের জার্সি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফুটপাতের বিক্রেতারা।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সির পেছনে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখানোর প্রবণতাও বেড়েছে। টুইন টাওয়ার মার্কেটের বিভিন্ন প্রিন্টিং দোকানে নাম ও নম্বর লেখাতে ভিড় করছেন সমর্থকরা। কাজের ধরন অনুযায়ী এ সেবার জন্য ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

জার্সির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পতাকার বিক্রিও বেড়েছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, ৩ ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের পতাকা ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে জার্সির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তবুও বিশ্বকাপের আনন্দে শামিল হতে প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে জার্সি ও ক্রীড়াসামগ্রীর বিক্রি, যা তাদের ব্যবসায় নতুন গতি যোগ করবে।