খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
ঈদের ছুটিতে প্রতি বছর পর্যটন কেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নামলেও এ বছরের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। আশানুরূপ পর্যটক না আসায় ‘খড়া’ চলছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বিকালে জমেনি সমুদ্র সৈকত। শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে পর্যটক সমাগম।
তবে এর বেশিরভাগই আশপাশের এলাকার। তারা ঘুরতে এসেছেন। কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবার চলেও যাবেন।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের ধারণা, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় মিটিয়ে আনন্দ ভ্রমণ করার ফুরসত হয়ত মিলছে না। তাই এবারের কোরবানির ঈদের আগে ও পরে লম্বা ছুটিতেও ভ্রমণ পিপাসুরা কুয়াকাটায় আসেননি।
পর্যটনকেন্দ্রের বিলাস বহুল হোটেল-মোটেলে ১০-১৫ ভাগ বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ী নেতারা।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, “কোরবানির ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটক নেই বললেই চলে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে বেশির ভাগ পর্যটক ভ্রমণ বাজেট গুটিয়ে নিয়েছেন। তাই কুয়াকাটায় পর্যটক খুবই কম।”
“রোজার ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ব্যাপক চাপ ছিল। অধিকাংশ হোটেল মোটেল বুকিং ছিল। ব্যবসায়ীরা একটু লাভের মুখ দেখেছিল। কিন্তু এবারে একেবারেই উল্টো চিত্র।”
সৈকত ঘুরে দেখা যায়, তুলনামূলক কম সংখ্যক পর্যটক হলেও তারা সৈকতের জিরো পয়েন্টে সমুদ্রের ছোট বড় ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালিতে মেতেছেন। অনেকে প্রিয়জনের হাত ধরে সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শিশুরা মেতেছে বালু খেলায়।
জিরো পয়েন্টের পাশাপাশি লেম্বুর বন, ঝাউবন ও গঙ্গামতি পর্যটন স্পটেও পর্যটকরা যাচ্ছেন। বর্তমানে কম থাকলেও দু-তিন দিন পর পর্যটক সমাগমের আশা করছেন হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা।
কুয়াকাটা জয় রেস্টুরেন্টের মালিক গণেশ দাস বলেন, “রোজার ঈদে বেশ পর্যটক সমাগম হয়েছিল। আমাদের ব্যবসাও ভাল ছিল। কিন্তু এবার ব্যবসা মন্দা।”
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জয়ন্ত কুমার মণ্ডল বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বেশ তৎপর রয়েছি। এ ছাড়া নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরাও মাঠে কাজ করছে। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি করছেন।”
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। ঈদের পরে পর্যটকের ভীড় হবে আশা করা যাচ্ছে। শুক্রবার থেকে তিন-চারদিন পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে। পশু কোরবানি করার পরে সাধারণত পর্যটকরা কুয়াকাটামুখি হন। তাই শনিবার থেকে পর্যটক বাড়বে বলেও ধারণা করছি।”
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক সোহাগ রহমান বলেন, “পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই প্রথম কুয়াকাটায় ট্যুরে আসলাম। বেশ দারুন এক অনুভূতি। সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাচ্ছে শিশুরা। তারা সৈকতে বালু নিয়ে খেলায় মেতেছে। আমরাও গোসলে নামছি। সাগরের গর্জন ভিন্ন আকর্ষণ।”
ঢাকা থেকে রাইসুল ইসলাম তার পাঁচ বন্ধুসহ ঘুরতে এসেছেন কুয়াকাটায়। তারা জানান, রোজার ঈদে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। এবার কুয়াকাটায় এসেছেন। কুয়াকাটার পরিবেশ আলাদা মনে হচ্ছে তাদের কাছে।











































