স্টাফ রিপোর্টার।।
ঈদের দীর্ঘ ছুটি মানেই প্রিয়জনদের সঙ্গে একটু অন্যরকম সময় কাটানোর পরিকল্পনা। ব্যস্ত শহুরে জীবনের ক্লান্তি পেছনে ফেলে অনেকেই খুঁজে নেন প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ। আর সেই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা এখন হয়ে উঠেছে ঈদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
নদী, বন, ঐতিহ্য, ইতিহাস আর আধুনিক বিনোদনের মিশেলে গড়ে ওঠা এই শহরে ঈদের ছুটিতে তৈরি হয় ভিন্ন এক উৎসবমুখর আবহ। কোথাও নদীর ঘাটে মানুষের ভিড়, কোথাও পার্কে শিশুদের উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও সুন্দরবনের পথে পর্যটকদের ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে খুলনা যেন হয়ে ওঠে জীবন্ত এক আনন্দ নগরী।
কম খরচে কাছাকাছি দূরত্বে একাধিক দর্শনীয় স্থান থাকায় পরিবার, বন্ধু কিংবা শিশুদের নিয়ে ঘুরতে খুলনাকে বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ঈদের ছুটিতে খুলনার প্রতিটি গন্তব্যই এনে দেয় আলাদা অভিজ্ঞতা।
করমজল: একদিনেই সুন্দরবনের স্বাদ
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রবেশদ্বার করমজল ঈদের সময় পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে ওঠে। নদীপথে বন ভ্রমণের সময় দুই পাশের সবুজ বন, পাখির ডাক আর নদীর শান্ত সৌন্দর্য ভ্রমণকে করে তোলে অন্যরকম। করমজলে রয়েছে কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণের অবাধ বিচরণ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ। শিশুদের জন্য এটি যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি শিক্ষামূলকও।
খুলনা শহর থেকে করমজলের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। খুলনা থেকে মংলা হয়ে অথবা সরাসরি ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সেখানে যাওয়া যায়। যাতায়াত খরচ সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। প্রবেশ ফি প্রায় ২০ থেকে ৪০ টাকা।
ষাট গম্বুজ মসজিদ: ইতিহাসের সাক্ষী
ঐতিহাসিক ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ঈদের ছুটিতে অন্যতম আকর্ষণ। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনাটি মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। বিশাল গম্বুজ, প্রাচীন ইটের নির্মাণশৈলী আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ ভ্রমণকারীদের ফিরিয়ে নেয় কয়েকশ বছর আগের ইতিহাসে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এখানে ইতিহাসের সঙ্গে কাটান অন্যরকম সময়।
খুলনা শহর থেকে বাগেরহাটের দূরত্ব প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার। বাস বা মাইক্রোবাসে যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। যাতায়াত খরচ সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রবেশ ফি বাংলাদেশিদের জন্য ৩০ টাকা।
শহীদ হাদীস পার্ক: নগরের ভেতরে সবুজের স্বস্তি
শহরের ভেতরে যারা থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে শহীদ হাদিস পার্ক কিংবা স্থানীয় শিশু পার্কগুলো। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ হাদীস পার্ক ঈদের সময় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে। সবুজ গাছপালা, খোলা মাঠ আর জলাধার মিলিয়ে এটি নগরের ভেতরে এক স্বস্তির জায়গা।
শিশুরা খেলাধুলায় মেতে ওঠে, আর বড়রা খোলা পরিবেশে কাটান নির্ভার কিছু সময়। বিকেলের দিকে পুরো পার্কজুড়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। শহরের যেকোনো স্থান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। যাতায়াত খরচ পড়ে প্রায় ২০ থেকে ৬০ টাকা। প্রবেশ ফি নেই।
রূপসা নদী ও খান জাহান আলী সেতু: সূর্যাস্তের রঙিন বিকেল
নদীমাতৃক খুলনার সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে রূপসা নদীর তীরে। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্তের সময় নদীর পানিতে লাল-কমলা আভা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর।
খান জাহান আলী সেতু ঘিরে তরুণদের আড্ডা, ফটোগ্রাফি আর হাঁটাহাঁটিতে ঈদের সন্ধ্যাগুলো হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। অনেকে শুধু সূর্যাস্ত দেখতেই ভিড় করেন নদীর ধারে। খুলনা শহর থেকেই রিকশা বা সিএনজিতে সহজে যাওয়া যায় এই এলাকায়। যাতায়াত খরচ সাধারণত ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
শিশুদের আনন্দে জমজমাট বিনোদন পার্কগুলো
ঈদের ছুটিতে শিশুদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে খুলনার বিভিন্ন বিনোদন পার্ক। মুজগুন্নির উৎসব পার্ক, খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও জাহানাবাদ সেনানিবাস এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এ সময় উপচে পড়ে ভিড়। বিভিন্ন রাইড, খেলাধুলা আর খাবারের দোকান ঘিরে জমে ওঠে উৎসবের আমেজ।
পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য এসব পার্ক বেশ জনপ্রিয়। রিকশা বা সিএনজিতে যেতে খরচ পড়ে সাধারণত ৩০ থেকে ১০০ টাকা। রাইড ও অন্যান্য বিনোদনের জন্য আলাদা খরচ হতে পারে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।











































