স্টাফ রিপোর্টার।।
ভাষা শহিদদের রক্তে অর্জিত আমাদের মাতৃভাষার স্মৃতিচিহ্ন শহিদ মিনার কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঙালির আত্মত্যাগ, চেতনা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। অথচ সেই পবিত্র শহিদ মিনারই এখন কিছু অসচেতন মানুষের বেহায়াপনা, উদাসীনতা ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপবিত্র হওয়ার পথে। খুলনা নগরীর হাদিস পার্কে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদ উল আজহার প্রথমদিনে দেখা গেছে চরম অবমাননাকর দৃশ্য। অবমাননাকর দৃশ্যের ছবি দৈনিক খুলনাঞ্চলের কাছে থাকলেও শহিদ মিনারের সম্মান রক্ষার্থে ছবিগুলো প্রকাশ করা হলো না।
শহিদ মিনারের মূল বেদিতে জুতো পায়ে উঠে তরুণদের আড্ডা, হাসিঠাট্টা ও অবাধ বিচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ সেখানে বসে খাওয়া-দাওয়া করছে, আবার কেউ মোবাইলে ভিডিও ও ছবি তুলতে ব্যস্ত। যেন এটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র! ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি এমন নির্মম অবজ্ঞা ও অসভ্য আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মালিহা তাবাস্সুম বলেন, যে শহিদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমরা একুশের চেতনার কথা বলি, সেই মিনারের বেদিতে জুতো পায়ে ওঠা নিঃসন্দেহে ভাষা শহিদদের প্রতি চরম অসম্মান। এটি শুধু ব্যক্তিগত অসচেতনতা নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি অবহেলার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
পার্কে ঘুরতে আসা স্কুল শিক্ষক মোতোলেব হোসেন বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে খুলনার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় এটি ধীরে ধীরে আড্ডাখানা ও অনিয়ন্ত্রিত বিচরণস্থলে পরিণত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেক সময় সেখানে অশালীন আচরণ, উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও চোখে পড়ে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি খুব একটা দেখা যায় না।
সচেতন নাগরিকরা জানান, শহিদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মূল বেদিতে জুতো পায়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, নিরাপত্তাকর্মী ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে তরুণদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহিদ মিনারের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু বলেন, শহিদ মিনার কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়। এটি আমাদের জাতিসত্তার অহংকার ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এর মর্যাদা রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। ভাষা শহিদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে হলে প্রথমেই শহিদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।











































