স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আর কদিন পরেই। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনায় ভাসছেন বাংলাদেশের ভক্তরা। রাজধানীর ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিপণিবিতান– সবখানে এখন প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, হাতের ব্যান্ডসহ নানা রকম ফুটবল সামগ্রীর রমরমা ব্যবসা চলছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউ মার্কেট, লক্ষ্মী বাজার, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে জার্সি কিনতে আসছেন।
গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটে ছেলে লালন ও মেয়ে বিলাসীকে নিয়ে জার্সি কিনতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহসানুল হক। তিনি বলেন, ছেলেকে আর্জেন্টিনা আর মেয়েকে ব্রাজিলের জার্সি কিনে দিয়েছি। আগামী সপ্তাহে নিজের ও স্ত্রীর জন্য কিনবো।
বিশ্বকাপের মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও বেশ আশাবাদী। গুলিস্তানের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেটের স্পোর্টস হাউসের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. রুবেল জানান, ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমে উঠেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে বিক্রি হওয়া জার্সির প্রায় ৯০ শতাংশই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জার্সিরও চাহিদা রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের সময় ইউরোপের নামী ক্লাবগুলোর জার্সি বিক্রি তুলনামূলক কমে গেছে।
রাজধানীর জার্সির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে গুলিস্তান এলাকায়। সেখানে দেশীয়ভাবে তৈরি জার্সির পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আমদানি করা জার্সিও বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশে তৈরি জার্সি পাইকারিতে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আমদানি করা জার্সি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এসব জার্সির দাম আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। এছাড়া জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
গুলিস্তান সমবায় মার্কেট ও বঙ্গবাজার ঘুরে জানা গেছে, এই দুই মার্কেট থেকেই ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকার ফুটবলসামগ্রী স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি হবে বলেন জানান ব্যাবসায়ীরা।
গুলিস্তানের টুইন টাওয়ার মার্কেটের ‘জার্সি বিডি’র স্বত্বাধিকারী জুনায়েত হাবিবি জানান, দেশে মূলত চীনে তৈরি জার্সিই বেশি আসে। তিনি বলেন, হোম ও অ্যাওয়ে দুই ধরনের জার্সিরই চাহিদা রয়েছে। তবে হোম জার্সি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
অনলাইনেও জমে উঠেছে জার্সির ব্যবসা। অনলাইনে জার্সি বিক্রি করা ‘রনি জার্সিবাজ’র মালিক রনি জানান, প্রতি সপ্তাহে ৫০০টির বেশি জার্সির অর্ডার পাচ্ছেন তারা। অনলাইনে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।
শুধু জার্সিই নয়, বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের পতাকাও। গুলিস্তান ও সদরঘাট এলাকার দর্জিদের দোকানগুলোতে এখন পতাকা তৈরির ব্যস্ততা। ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা জানান, পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে আসা পুরান ঢাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে মেসির ভক্ত। তাই আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি। জার্সিতে ওর নামও লিখে দেবো।
গুলিস্তানে জার্সি কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জার্সি কিনি। এবার মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি।
সদরঘাটে জার্সি কিনতে আসা গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, আমার দুই ছেলে ব্রাজিলের ভক্ত। ওদের জন্য জার্সি আর পতাকা কিনেছি। বিশ্বকাপকে ঘিরে বাসায়ও আলাদা একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।










































