স্পোর্টস ডেস্ক।।
লা লিগার একটি ম্যাচ খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন লামিন ইয়ামাল। তাই বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম দুই ম্যাচ কেপ ভার্দে আর সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। বছর আঠারোর এই স্প্যানিশ তারকার বিশ্বকাপ অভিষেক হতে পারে ২৬ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে নাম লেখানোর জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন। ফিফার সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সর্বকনিষ্ঠ স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে তিনিই প্রথম হ্যাটট্রিক করতে চান বিশ্বকাপে। সেই সঙ্গে তাঁর কল্পনার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি স্পর্শ করছেন তিনি
ফিফা: বিশ্বকাপ শুনলেই আপনার মনে প্রথমে কী আসে?
লামিনে ইয়ামাল: একদম ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, এটা এমন একটা টুর্নামেন্ট, যা সবাই দেখে। আর এটাই একে বিশেষ করে তোলে। এমনকি আপনি যদি ফুটবল পছন্দ নাও করেন, তাও যখন আপনার দেশ খেলে, তখন হঠাৎ করেই সবাই রাস্তায় নেমে আসে, একসঙ্গে খেলা দেখে। এটাই এই খেলার সৌন্দর্য। আমি নিজেই এই টুর্নামেন্টের অংশ হতে যাচ্ছি– এটা ভাবলেই আমার গায়ে কাঁটা দেয়।
ফিফা: চাপের মধ্যেও আপনাকে খুব স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে দেখা যায়। আপনি এটা কীভাবে করেন?
লামিনে ইয়ামাল: আমি যদি এমন কোনো কাজ করতাম যা আমি জানি না বা পারি না, তখন হয়তো আমি নার্ভাস হতাম। যেমন ধরুন, আমার যদি কোনো সাধারণ চাকরি থাকত, যা আমার কখনোই ছিল না, তবে সেটি গড়বড় করে ফেলার ভয়ে আমি হয়তো চিন্তিত থাকতাম। কিন্তু ফুটবল এমন একটা জিনিস, যা আমি সব সময় করে আসছি; এটা আমার চেনা জগৎ। তাই আমি এটা উপভোগ করার চেষ্টা করি। গ্যালারিতে যখন আমার বাবা-মাকে দেখি এবং জানি যে তারা আমাকে নিয়ে গর্বিত, তখন আমার সব চাপ দূর হয়ে যায়। এটা সত্যিই খুব দারুণ একটা অনুভূতি।
ফিফা: ইউরো এবং নেশন্স লিগ জেতার পর স্পেনকে এখন হট ফেভারিট ধরা হচ্ছে। এই চাপটা আপনারা কীভাবে সামলাচ্ছেন?
লামিনে ইয়ামাল: ব্যাপারটা বেশ মজার। কারণ, ইউরোতে পরিস্থিতি একদম উল্টো ছিল। কেউ ভাবেনি আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো, আর সেটাই আমাদের পক্ষে কাজ করেছিল। তবে আপনি যখন মাঠে নামবেন, তখন ফেভারিট তকমা কোনো কাজে আসে না। এটা আপনাকে বাড়তি কোনো সুবিধা দেবে না কিংবা গোল করতেও সাহায্য করবে না। আপনাকে ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। অনেক শক্তিশালী দল আছে– আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড এবং বিশ্বকাপে সবাই তাদের সেরাটা দিয়েই খেলতে আসে। আমাদের লক্ষ্য হলো, স্পেনের জন্য নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেওয়া এবং নিজস্ব খেলার শৈলীর ওপর ভরসা রাখা। কারণ আমার মতে, আমরাই সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল খেলি।
ফিফা: স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি কোনগুলো বলে আপনি মনে করেন?
লামিনে ইয়ামাল: প্রথমত, আমাদের খেলোয়াড়রা। স্প্যানিশ একাডেমিগুলো বিশ্বের সেরা এবং তারা চমৎকার সব প্রতিভা তৈরি করে, যা আমাদের খেলার ধরন দেখলেই বোঝা যায়। অবশ্যই, বিশ্বকাপ মানে শুধু ভালো খেলা নয়, এখানে জেতাটাই আসল। তবে আমরা আমাদের খেলার দর্শনে বিশ্বাসী এবং এর ফলও আমরা পাচ্ছি।
ফিফা: আপনাকে কোনটি বেশি অনুপ্রাণিত করে: মানুষকে সঠিক প্রমাণ করা নাকি তাদের ভুল প্রমাণ করা?
লামিনে ইয়ামাল: আমি বলব, মানুষকে ভুল প্রমাণ করা। খুব কম বয়সে যখন কেউ পাদপ্রদীপের আলোয় আসে, তখন সব সময়ই কিছু সন্দেহ তৈরি হয়– যেমন সে বড্ড কম বয়সী, সে হয়তো কেবল এক মৌসুমের চমক, কিংবা তাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করা হচ্ছে। আমার কাছে মূল বিষয় হলো, ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করা। বিশ্বকাপ আমার জন্য একটি নতুন পরীক্ষা এবং আমি এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
ফিফা: অনেকে আপনার সঙ্গে মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং নেইমারের তুলনা করেন?
লামিনে ইয়ামাল: আমার লক্ষ্য তাদের সঙ্গে তুলনায় আসা নয়; আমার লক্ষ্য হলো, তাদের পাশাপাশি উচ্চারিত হওয়া। যাতে পরবর্তী সময়ে যখন আপনি কাউকে এই প্রশ্নটা করবেন, তখন সেই তালিকায় যেন আমার নামটাও থাকে।
ফিফা: আপনার ছোটবেলার নিজেকে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?
লামিনে ইয়ামাল: (হেসে) বাচ্চা বয়সটা উপভোগ করো। কারণ, তুমি নিজে মাঠে নামার আগে তোমাকে আরও দুটি বিশ্বকাপ দর্শক হিসেবে বসে দেখতে হবে। এই মুহূর্তটার স্বাদ নাও, খুব বেশি চিন্তা না করে খেলার সেই অনুভূতিটা মনে রাখো এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের হয়ে গোল করার স্বপ্ন বুনে যাও। সেই অনুভূতিটাকে ধরে রাখো এবং বিশ্বাস করো যে, তুমি একদিন এটা সত্যি করে দেখাবে। স্বপ্ন দেখা কখনও বন্ধ করো না।
ফিফা: গাভির পর স্পেনের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম বিশ্বকাপ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে আপনার সামনে, এটা আপনার কেমন লাগবে?
লামিনে ইয়ামাল: ইউরোর পর থেকেই গাভি মজা করে বলছে, এটাই একমাত্র রেকর্ড যা আমি তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারব না। তাই আমাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে– বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ স্প্যানিশ খেলোয়াড় হতে হবে। আমি যদি দ্বিতীয় গোলটি করি, তবে হয়তো গাভির দিকে তাকিয়ে একটু মাথা নাড়ব। কারণ, ওর তো মোটে একটা গোল আছে। তবে আমি তিনটি গোলের জন্যই ঝাঁপাব।
ফিফা: স্বপ্নের মুহূর্তটি দেখতে কেমন হবে?
লামিনে ইয়ামাল: রেফারি শেষ বাঁশি বাজাবেন এবং আমরা জিতে যাব। আমরা কত গোলে জিতব তা জানি না, তবে আমরাই চ্যাম্পিয়ন। এরপর স্পেনে ফিরে গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে একসঙ্গে উদযাপন করা। সেটা সত্যিই খুব বিশেষ কিছু হবে।









































