Home আঞ্চলিক বাগেরহাটে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট, চাহিদা বেশি দেশি গরুর

বাগেরহাটে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট, চাহিদা বেশি দেশি গরুর

5

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলায় ১৭টি স্থায়ী ও ১২টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমতে শুরু করেছে। জেলার ছোট-বড় বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে।

যদিও এখনো বেচাকেনা পুরোপুরি জমে ওঠেনি, তবে দেশি ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ করা গেছে। জেলার ফকিরহাট উপজেলার শতবর্ষী বেতাগা পশুরহাট, বাগেরহাট সদর, মোল্লাহাট, চিতলমারী, মোংলা, কচুয়া ও শরণখোলাসহ বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন।

খুলনা, বরিশাল, নড়াইল ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে আসছেন। ফলে প্রতিদিনই হাটগুলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে।

জেলার ফকিরহাট বেতাগা পশুর হাটে আসা বিক্রেতা কালাম শিকদার জানান, এখনো বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে হাটে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছে। অনেক ক্রেতাই হাটে আসছেন গরু দেখতে, দাম-দরও করছেন। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, কেনাবেচাও তত বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে বেতাগা বাজারে আশা ক্রেতা কালাম মোল্লা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম কিছুটা বেশি। বিশেষ করে বড় আকারের গরুর দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। যে কারনে দেশি ও মাঝারি আকারের গরু পছন্দ করছি। আমার মত হাটে আশা অধিকাংশ ক্রেতাই ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পছন্দ করছেন।’

ফকিরহাটের বেতাগা পশুরহাটের ইজারাদার মাসুদ রানা আরিফ বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা ঠেকাতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাগেরহাট জেলায় এ বছর ষাঁড়, গরু, ছাগল ও ভেড়াসহ মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। ফলে চাহিদার তুলনায় জেলায় পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাট জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. ছাহেব আলী বলেন, ‘বাগেরহাট জেলায় এ বছর স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২৯টি পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটকে ঘিরে ইতোমধ্যে কোরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। এছাড়া সময় যত ঘনিয়ে আসবে, জেলার পশুর হাটগুলো ততই জমজমাট হয়ে উঠবে।’