ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহ শহরে একটি মসজিদের সামনে বাদজুমা ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের শিকার হওয়ার পর টানাা আট ঘণ্টার উত্তপ্ত পরিস্থিতি পার করে রাতেও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (২২ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহর থেকে ঢাকার পথে ছেড়ে আসা তাকে বহন করা গাড়িটি রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে মাগুরা শহর অতিক্রম করে।
এদিন দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদে তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।
ভিডিওতে দেখা গেছে, তখন সাহেদের পিছন থেকে কিছু তরুণ নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে থাকা তরুণদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি শুরু হয়। বেশ কিছু সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত হয়।
এসময় এনসিপির সমর্থকের মধ্যে অনেকে আহত হন। তাদের এক কর্মী কোমরে থাকা অস্ত্রের মতো কিছু বের করে হামলা চালাতে উদ্ধত হলে তাকে নিবৃত করেন আরেকজন। বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারী দুজন ছাত্রশিবিরের কর্মী।
তবে নাসীরুদ্দীন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে বলেন, এটি প্রোপাগান্ডা। বিএনপি এটি ছড়াচ্ছে। আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এই প্রোপাগান্ড উঠিয়েছেন। এটি মিথ্যা।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে কালেক্টরেট মসজিদ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে থানায় যান নাসীরুদ্দীন। সেখানে মামলা করা নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ তোলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, থানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তাদের খাওয়া-দাওয়া হয়নি। থানার সার্ভার ডাউন করে রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, “মামলা না নিলে প্রয়োজন পড়লে বছর পর বছর ধরে থানার সামনে বসে থাকব।”
বিএনপি-ছাত্রদল, যুবদলের সঙ্গে পুলিশও তাদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছে দাবি করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এ জন্যই থানা মামলা নিতে টালবাহানা করছে। এর দায় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
একপর্যায়ে তার সমর্থকের নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন নাসীরুদ্দীন। সেখানে বসে বিএনপি, স্বরাষ্ট্র ও আইমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এ সময় আইনমন্ত্রী ‘গুন্ডা’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
রাতে পরিস্থিতি আরো নাটকীয় হয়ে উঠতে শুরু করে। থানার সামনে আসতে থাকেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করার পর সেখান থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন নাসীরুদ্দীন।
মামলায় ছাত্রদলের আট নেতাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ জনকে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় নাম আসা আটজন হলেন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, ঝিনাইদহ পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদু ও ছাত্রদল নেতা আরাফাত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা কিলঘুষি মেরেছেন, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছেন বলে মামলায় লেখা হয়েছে।
হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগের বর্ণনায় লেখা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, হামলার সময় তাদের একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে।
ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান এসব তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”









































