Home আলোচিত সংবাদ শিশুটির বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিশুটির বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

2

ঢাকা অফিস।।

রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৮ বছরের শিশুর বড় বোনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুটির স্বজনদের খোঁজ-খবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে শিশুটির বাবা বলেছেন, বাচ্চার হত্যাকারীকে এত দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে– এটা অভাবনীয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অন্যায়ের সঙ্গে যে জড়িত তার বিচার আমরা সবার আগে করতে চাই।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, শিশুটির বাবা আরও বলেছেন, এই নোংরা পরিবেশের কারণে তিনি তার শিশুটিকে হারিয়েছেন। তিনি তার বড় মেয়েকে এই নোংরা পরিবেশ থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চান। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি এক খণ্ড জমি চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এক খণ্ড জমি দেবেন– কথা দিয়েছেন বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।

শিশুটির বড় বোনের লেখাপড়াসহ ভবিষ্যৎ দায়িত্বভারও প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা দ্রুত এই মামলার চার্জশিট দেবেন এবং দ্রুত যাতে বিচার হয় সে জন্য আদালতকে সহযোগিতা করবেন। পরে

প্রধানমন্ত্রী শিশুটির বোনকে মাথায় হাত দিয়ে আদর করেন এবং সান্ত্বনা দেন। বড় মেয়ের পাশেই বসা ছিলেন মা। তিনি কান্না করছিলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শিশুটির বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের বাসার সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রেখার বাইরে সহপাঠীরাসহ এলাকাবাসী হত্যাকারীর দ্রুত বিচার এবং ফাঁসির দাবি জানান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া নৃশংসভাবে শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, সকালে শিশুটি বাসা থেকে বের হওয়ার পর সোহেল রানা তাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে হত্যা করে।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সারাদেশে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মসূচি থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন।