Home আঞ্চলিক ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আ.লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অতিথি জামায়াতের এমপি

ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আ.লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অতিথি জামায়াতের এমপি

10

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি।।


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার বিয়ে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। বিয়েতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি আবু তালিব।

বিয়ে বাড়িতে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী রাশেদ খান, সাবেক এমপি আনারের কন্যা ডরিন ও কালীগঞ্জ বিএনপির নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ।

এ সময় শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামি ও রাখালগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুকে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে দেখা যায়।


জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামের নিজ বাড়িতে রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ে হয়।

বিয়েতে তিন দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান মিনি, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতৃবৃন্দ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের এক কর্মী বলেন, শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গেলেন। এটা একদমই লজ্জার বিষয়।

স্থানীয় ছাত্রদলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্টু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলাকে তারা ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।

১১ নং রাখালগাছী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম বলেন, যে মন্টুর জন্য আমরা বছরের পর বছর বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি, মামলা খেয়েছি, হামলার শিকার হয়েছি। সেই মন্টু চেয়ারম্যানের মেয়েকে আজ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিয়ে করছেন। এটা আমাদের জন্য চরম কষ্টের এবং লজ্জার।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারুফ বিল্লাহ দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে পাওয়া যায়নি। ২২ সালের দিক থেকে তিনি আমাদের কোনো খোঁজখবর রাখতেন না। মারুফ বিল্লাহ বলতেন বিএনপি আর ক্ষমতায় আসবে না, তিনি বিদেশে চলে যাবেন।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য আবু তালিব বলেন, ওই ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। সমাজ সামাজিকতার কারণে গিয়েছি। ওই হত্যা মামলায় আমিই সাবেক চেয়ারম্যান মন্টুর নাম দিয়েছি। এই মামলায় যাতে ভুক্তভোগী পরিবার সঠিক বিচার পাই সেই ব্যবস্থাও করা হবে।