Home স্বাস্থ্য আদর্শ ‘ব্যালেন্সড ডায়েট’ বলতে কী বুঝায়? জেনে নিন

আদর্শ ‘ব্যালেন্সড ডায়েট’ বলতে কী বুঝায়? জেনে নিন

3

মিলি রহমান।।

সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সুষম খাদ্য শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তবে অনেকেই জানেন না, প্রতিদিনের খাবারের থালায় কোন খাবার কতটা পরিমাণে থাকা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে বৈচিত্র্য এবং সঠিক অনুপাত বজায় রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকিও কমে। তাই সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় কিছু বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।

শর্করা জাতীয় খাবার শরীরের প্রধান শক্তির উৎস হলেও সঠিক ধরনের শর্করা বেছে নেওয়া জরুরি। সাদা চাল বা ময়দার তৈরি খাবারের পরিবর্তে লাল চাল, আটা, ওটস কিংবা ভুট্টার মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো। এসব খাবার দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

পেশি ও হাড়ের সুস্থতার জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, ছোলা, রাজমা, সয়া, ডিম ও কম চর্বিযুক্ত মাংস রাখা উচিত। নিরামিষভোজীরা ডাল ও ভাত বা রুটির সমন্বয়ে সহজেই প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। এছাড়া মাংস অতিরিক্ত ভাজা না করে ঝোল বা গ্রিল করে খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর।

সবজি ও ফল যত বেশি রঙিন হবে, তত বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে। সবুজ শাকসবজি, গাজর, মিষ্টি কুমড়া বা বেগুনি রঙের সবজি নিয়মিত খাওয়া উপকারী। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফল খাওয়া ভালো, কারণ এতে আঁশ অক্ষত থাকে। পোলাও বা খিচুড়ির মতো খাবারেও সবজি যোগ করলে পুষ্টিমান বাড়ে।

শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বিরও প্রয়োজন রয়েছে। তাই পরিমিত পরিমাণে সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘি, মাখন বা বনস্পতি এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত লবণ, চিনিযুক্ত পানীয় ও মিষ্টিজাত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি হজমে সহায়তা করে। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো।

চিনিযুক্ত শরবতের বদলে ডাবের পানি বা পাতলা টক দইয়ের ঘোল পান করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং সকালের নাস্তা না বাদ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।