Home আঞ্চলিক অবশেষে টিকটকার সেই নারীর দাফন

অবশেষে টিকটকার সেই নারীর দাফন

23

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।


চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় এলাকায় সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফন কার্যক্রম থমকে যায়। ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১১ টার পরে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই দাফন নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়দের একটি অংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফন দিতে রাজি হয়নি।

অন্য বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তিনি বা তার পরিবার এখানের সদস্য না। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি।’

এদিকে সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুঁড়তেও দেয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও দাফনের কথা ভাবছিলাম। কিন্তু গ্রামের লোকজন রাতে দাফনের সুযোগ দেয়।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারা ক্যানাল পাড়ার তুহিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। রাতে গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে।