Home ফিচার ডা. সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পা; করোনা প্রতিরোধে সামনের সারির এক যোদ্ধা

ডা. সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পা; করোনা প্রতিরোধে সামনের সারির এক যোদ্ধা

105


রেজাউর রহমান তনু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিক থেকে প্রথম সারির যোদ্ধা হয়ে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। জীবন বাজি রেখে তারা লড়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য এক শক্তির বিরুদ্ধে। এখনও করোনার কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় রোগীকে সরাসরি সেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণও গেছে অনেকের।

অন্য চিকিৎসকদের মতো করোনার বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হসপিটাল এর ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের চিকিৎসক সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পা। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নির্ভয়ে। তাঁর একটাই কথা-চিকিৎসক হওয়ার শপথ যখন নিয়েছি তখন মানুষের সেবা দিয়েই যাব।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার মেয়ে ডাক্তার সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিএস পাস করে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার দায়িত্বে কোনো সময় ছিল না অবহেলার ছাপ। জরুরি প্রয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সবসময় তাকে পাশে পেয়েছে। করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই ডা. সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রোগী দেখেন। করোনার প্রথম সারির এ যোদ্ধা ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা রোগীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সেই সাথে নিয়মিত টেলিমেডিসিন সেবাও প্রদান করে যাচ্ছেন।

ডা. সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পার বাবা মো মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতো। সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। করোনা পরিস্থিতিতে সে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই। তারা ডাক্তার, তাদের কাজ মানুষের সেবা দেয়া। আমরা শুধু বলতে পারি, তোমরা সাবধানে থেকো। আর আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করতে পারি আমার সন্তানকে তুমি দেখে রেখ।’

ডা. সুমাইয়া ইসমত জাহান টুম্পার নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও মানবিকতা দেখে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হসপিটাল এর ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

করোনা যুদ্ধের সামনের সারির এই যোদ্ধা বলেন, এটা আসলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। করোনাভাইরাসের মতো এমন ভাইরাস আগে কখনও আসেনি। সেহেতু এটা নিয়ে কাজ করা একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। পরিবার থেকে কখনও অসহযোগিতা পাইনি। বরং তাদের অনুপ্রেরণা আমাকে আরও বেশি সাহস জুগিয়েছে। সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন উপকরণ পাচ্ছি।
একমাত্র সচেতনতাই পারে করোনাভাইরাসের এই ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করতে। মুখে সবসময় মাস্ক ও সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এগুলো সব সময় সবার করা উচিত বলে মনে করেন করোনা যুদ্ধের এই সম্মুখযোদ্ধা।