Home Lead আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাট, আহত ১০

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাট, আহত ১০

19


মাগুরা সংবাদদাতা।।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার (১ মে) রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা গ্রামের টিটন মোল্যা এবং আমতৈল গ্রামের লিপটন মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। তাঁরা দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর সুমন মিয়া নামের এক ভ্যানচালককে একা পেয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ নিয়ে দুই গ্রামের পক্ষ দুটি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন রফিকুল ইসলাম (৩৫), আরব আলী (৬৬) ও ইয়াহিয়া (২০)।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দাবি, অন্তত শতাধিক বাড়ি এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর থেকে গরু-ছাগলসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী ও দেবর বাইরে চাকরি করেন। রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়।’

নোহাটা গ্রামের লিপি বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। হামলাকারীরা আমাদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে এখন কোথায় থাকব বুঝতে পারছি না।’

আরেক ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, ‘রাতে সন্তানদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে মাঠে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এখনো আমরা আতঙ্কে আছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে টিটন মোল্লা ও লিপটন মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করা হলে দুজনের নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’