Home আঞ্চলিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকারী জাহিদুল খলিফা প্রকাশ্যে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকারী জাহিদুল খলিফা প্রকাশ্যে

121

স্টাফ রিপোর্টার।।

বিগত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় শর্টগান হাতে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে গুলি বর্ষণের অভিযোগে আলোচিত জাহিদুল খলিফা আবারও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন-এমন অভিযোগে খুলনা মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নগরীর বাগমারা মেইন রোডের গফ্ফারের মোড় এলাকায় তার উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন জাহিদুল খলিফা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা গুরুতর অভিযোগ থাকলেও প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। ফলে এক ধরনের ভয়ের রাজত্ব বিরাজ করত পুরো এলাকায়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গফ্ফারের মোড়সহ আশপাশের প্রায় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। দোকান থেকে বিনা পয়সায় পণ্য নেওয়া, হোটেলে খেয়ে বিল না দেওয়া এবং সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক অর্থ আদায়-এসবই ছিল তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হতো বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় শফিকুর রহমান জানান, ‘প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং প্রকাশ্যে দাপট দেখাতেন। বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণ এবং তা নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল এলাকাজুড়ে।’

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র –জনতার আন্দোলনের সময় পিকচার প্যালেস মোড় এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও এলাকায় তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এদিকে তার ছোট ভাই মুরাদ-যিনি যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দাবি, অতীতের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকায় পুনরায় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত জাহিদুল খলিফার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।