অনলাইন ডেস্ক।।
কাতারের গ্যাসক্ষেত্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় ওই গ্যাসক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতার। এই হামলার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। কারণ দেশগুলোর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির এক বড় অংশই আসে কাতার থেকে। আর কাতারের সিংহভাগপ্রাকৃতিক গ্যাস রাস লাফানে প্রক্রিয়াজাত ও সরবরাহ করা হয়।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলে পাকিস্তানের ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে। ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের গ্যাস খাতে আগে থেকেই দৈনিক প্রায় ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুর দিকে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কোম্পানিটির অনেক বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হামলা-পাল্টা হামলায় জ্বলছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ওই দিন প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। সেই থেকে এই যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধ এখন আর কেবল সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি উৎপাদনের হৃৎপিণ্ডে আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি ইরানে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পারসে হামলা চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে তেহরানের পাল্টা হামলা এই যুদ্ধকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।











































