নড়াইল প্রতিনিধি
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খুলনার উপ-পরিচালক নিভা রাণী পাঠকের স্বামী বেসরকারি কলেজ শিক্ষক (অব.) অরুণ রায়কে (৭২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জট খোলেনি। ঘরের সিন্দুকে রাখা প্রায় ২ লাখ টাকা, অলংকার এবং জমির কাগজপত্র সবই ঠিকঠাক রয়েছে। বাড়ির কোনো কিছুই খোয়া যায়নি। অরুণ রায়ের পরিবারের সদস্য এবং পুলিশও এই হত্যাকাণ্ডের কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না।
অরুণ রায় হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। হত্যার ঘটনা তদন্তে শুক্রবার রাত থেকে পিবিআই, সিআইডি ও র্যাব তদন্তে নামলেও কোনো ক্লু পায়নি। সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের ব্যানাহাটি গ্রামে দুর্বৃত্তরা ঘরের মধ্যে অরুণ রায়কে গলা কেটে হত্যা করে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

খুলনার বটিয়াঘাটা বেসরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক পদ থেকে ২০০৮ সালে অবসরে যাওয়ার পর একা গ্রামের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন অরুণ রায়। তার স্ত্রী নিভা রাণী, ছেলে প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ রায় এবং মেয়ে চিকিৎসক ইন্দিরা রায় চাকরির সুবাদে জেলার বাইরে থাকেন। তারা ছুটিতে বাড়ি আসেন। শুক্রবার তার পরিবার সারাদিন অরুণ রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পায়নি। পরে সন্ধ্যার পর নিভা রাণী ও ইন্দ্রোজিৎ খুলনা থেকে বাড়িতে এসে গেট বন্ধ পান। পরে মই বেয়ে দুইতলা ভবনের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে গলাকাটা অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান।
ইন্দ্রজিত রায় বলেন, বাবার সঙ্গে মায়ের সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয়। শুক্রবার সারাদিন বাবাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে বাবা একাই থাকতেন। তবে একজন কাজের লোক দেখাশোনা করতো। শুনেছি পূজার ছুটির কারণে তারা দু’দিন আসেনি। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আমি ও মা মই বেয়ে ওপরে উঠে দরজা ভেঙে দেখি বাবা আর নেই। এ সময় একটি ঘরের লাইট ও ফ্যান চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার রাতে কোনো এক সময় তাকে মেরে ফেলা হয়। তবে সিন্দুকের চাবি এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ সবার উপস্থিতিতে সিন্দুক খুলে দেখতে পায় সিন্দুকে রাখা প্রায় ২ লাখ টাকা, অলংকার এবং জমির কাগজপত্র সব কিছুই ঠিকঠাক রয়েছে। এছাড়া বাড়ির কোনো কিছু খোয়া যায়নি।
নিভা রানী বলেন, আমার স্বামী একজন নিরীহ লোক, এলাকায় তার কোনো শত্রু নেই। তাকে কারা হত্যা করলো ধারণা করতে পারছি না। যশোর পিবিআই-এর ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান বলেন, প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। সবেমাত্র তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।
র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার জানান, যেহেতু নিহতের পরিবারের কাছে কোনো ক্লু নেই, তাই এই মুহূর্তে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। এখনও তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাড়ির বর্তমান ও পুরোনো তিনজন কেয়ারটেকার এবং স্থানীয় এক ভ্যানচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।










































