Home Lead বায়তুন নুর–নিউমার্কেট ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বায়তুন নুর–নিউমার্কেট ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ

417

সৈয়দ হুমায়ুন কবীর।।

খুলনা মহানগরীর বায়তুন নুর মসজিদ ও কেডিএ নিউমার্কেটের চারপাশে গড়ে ওঠা ফাস্টফুড ও ছোট দোকানপাট ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন দোকানপ্রতি নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়লেও সংশ্লিষ্টদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বায়তুন নুর মসজিদ ও নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাথজুড়ে শতাধিক ফাস্টফুড, চা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি সেখানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এসব দোকান ও পার্কিং থেকে নিয়মিত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের জন্য দোকানভেদে প্রতিদিন আরও ৫০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হয়। অন্যদিকে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং গাড়ি প্রতি প্রায় ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাস শেষে এখান থেকে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় কিছু নেতা এই বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন নতুন একটি প্রভাবশালী মহল এই নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে। বর্তমানে এ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রুবেল বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে বা কথা বললে তাদের দোকান উচ্ছেদের ভয় দেখানো হয়। ইতিমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে এলাকা ছাড়তেও বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে ফুটপাথ দখল করে দোকান ও গাড়ির গ্যারেজ তৈরি হওয়ায় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরায়ও দুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় এমন অব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি বায়তুন নুর মসজিদ কমপ্লেক্সের নিচতলায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে নাশকতা কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে মসজিদ কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সম্পত্তি শাখার প্রধান গাজী সালাউদ্দিন বলেন, বায়তুন নুর মসজিদের চারপাশের ফুটপাথের দোকানগুলোর ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল মসজিদ কমিটির মাধ্যমে আদায় করা হয়। এসব অর্থ মসজিদের আয়-ব্যয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি আলাদা কমিটি রয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় ফুটপাথ দখল, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের স্বস্তি ফিরবে, অন্যদিকে নগরীর শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে।