Home Lead খুলনায় মন্ত্রীর দাবি জোরালো:নেতা-কর্মী ও নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ

খুলনায় মন্ত্রীর দাবি জোরালো:নেতা-কর্মী ও নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ

164


স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে মাত্র ১১টিতে জয় পেলেও জেলার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। খুলনা জেলার প্রায় ৬৭ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে দলটি। তবু নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা থেকে কাউকে স্থান না দেওয়ায় দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে সমালোচনা; অনেকেই একে খুলনার প্রতি ‘বৈষম্য’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।


দেশের আটটি বিভাগীয় সদরের জেলার মধ্যে এবার খুলনা ও রংপুর থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি। তবে রংপুরে বিএনপি কোনো আসনেই জয় পায়নি, বিপরীতে খুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য সত্ত্বেও মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। স্বাধীনতার পর এবার নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। অতীতের সরকারগুলোর সময়ও খুলনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মনঃকষ্ট ছিল। এবার সেই বঞ্চনার অবসান হবে-এমন প্রত্যাশা ছিল নাগরিক সমাজ ও দলীয় সমর্থকদের। কিন্তু নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনার কেউ স্থান না পাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ভঙ্গ হয়েছে।


অতীতের পরিসংখ্যান:
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে খুলনার দুটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও মন্ত্রিসভায় স্থান মেলেনি। ১৯৯১ সালে খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হন; সে সময় শেখ রাজ্জাক আলী স্বল্প সময়ের জন্য আইন প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে খুলনা-২, ৩ ও ৪ আসনে বিএনপি জয় পেলেও জেলার কেউ পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেননি; মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন হুইপ নির্বাচিত হয়েছিলেন।


বর্তমান প্রেক্ষাপট:
এবার খুলনা থেকে বিজয়ী চার সংসদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা-খুলনা-৩ আসনের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এবং খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগার। এছাড়া খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খানও জয়ী হয়েছেন। তবে তাঁদের কাউকেই মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি।


নগরের ইকবাল নগর এলাকায় এক চায়ের দোকানে আড্ডায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অলোক বৈদ্য নামের এক ভোটার বলেন, “খুলনায় বিএনপি ভালো ফল করেও মন্ত্রিত্ব পেল না। অথচ অন্য জেলায় একটি আসনে জিতেও মন্ত্রী হয়েছে। অন্তত একজন প্রতিমন্ত্রী তো দেওয়া যেত।”


বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, “বিভাগীয় জেলা হিসেবে মন্ত্রিসভায় খুলনার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল। স্বাধীনতার পর থেকে বারবার বঞ্চিত হওয়ায় মানুষ হতাশ।” মহানগর বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, খুলনা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল; মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব না থাকলে উন্নয়ন বৈষম্য আরও বাড়তে পারে এবং এতে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।


তবে মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম (মনা) বলেন, “আমাদের নেতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। সঠিক সময়ে তিনি খুলনার মানুষকে মূল্যায়ন করবেন।” জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামানও বলেন, “দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে আমরা আস্থা রাখছি।”


দাবি জোরালো:
খুলনায় দুইজন ‘হেভিওয়েট’ সংসদ সদস্য রয়েছেন-রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল। পাশাপাশি অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগারের নামও আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় নেতা–কর্মী ও নাগরিকদের একাংশের দাবি, তাঁদের মধ্য থেকে অন্তত একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে খুলনার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটত।


সব মিলিয়ে খুলনায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে-দলীয় সাফল্যের পরও কেন মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নেই? সময়ই বলে দেবে এই দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং খুলনার রাজনৈতিক সমীকরণে এর প্রভাব কতদূর গড়ায়।