Home আলোচিত সংবাদ বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন: আমাদের ভালোবাসা, আমাদের দায়

বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন: আমাদের ভালোবাসা, আমাদের দায়

17

তপু বিশ্বাস।।

দেশের পশ্চিম উপকূলে বিস্তৃত সুন্দরবন শুধু একটি বনভূমি নয়—এটি বাংলাদেশের গৌরব, আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং বিশ্বদরবারে পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতীক। বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে এটি স্বীকৃত বিশ্বঐতিহ্য। জগদ্বিখ্যাত এই প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী হওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে আলাদা মর্যাদায় চিহ্নিত করা যায়।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে আগলে রাখার ক্ষেত্রে সুন্দরবনের ভূমিকা অনন্য। যেন মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা শিশুর মতোই এই বনকে আশ্রয় করে নিরাপদ থাকে উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ। ঝড়-ঝঞ্ঝার আঘাত প্রশমিত করে লক্ষ প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় নীরবে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে সুন্দরবন।

সুন্দরবন কেবল বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনই নয়; এটি জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব ভাণ্ডার। অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও জলজ সম্পদের আবাসস্থল হওয়ায় একে বলা হয়—‘জীববৈচিত্র্যের জীবন্ত পাঠশালা’। একই সঙ্গে এ বন লাখো মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এই অনন্য সম্পদের প্রতি ভালোবাসা ও মমতা জাগ্রত করতে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হয় ‘সুন্দরবন দিবস’। ২০০১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের উদ্যোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশসহ দেশের প্রায় ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন। সেখানেই ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বন বিভাগ ও সুন্দরবন একাডেমির যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে; যুক্ত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সমাজ ও প্রকৃতিপ্রেমী নাগরিকগোষ্ঠী।

তবে উদ্বেগের বিষয়—অতিনির্ভরতা, নির্বিচার আহরণ ও পরিবেশবিধ্বংসী আচরণে দিন দিন বিপন্ন হয়ে পড়ছে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, লবণাক্ততার বৃদ্ধি, দূষণ ও অবৈধ কার্যক্রম এই বিশ্বঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

সুন্দরবন দিবস পালনের মূল লক্ষ্যই হলো—সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা। কারণ সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, বাঁচবে মানুষ ও প্রকৃতি।

এই বন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়—এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। তাই সুন্দরবনের প্রতি ভালোবাসা হোক প্রতিদিনের অঙ্গীকার, আর সংরক্ষণ হোক আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।