Home খেলাধুলা ঢাকার বিপক্ষে সিলেটের রোমাঞ্চকর জয়, শামীমের লড়াই

ঢাকার বিপক্ষে সিলেটের রোমাঞ্চকর জয়, শামীমের লড়াই

5


স্পোর্টস রিপোর্টার

সিলেট স্টেডিয়ামে বছরের প্রথম দিনে বিপিএলের প্রথম ম্যাচে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই দেখলো ক্রিকেটপ্রেমীরা। গতকাল এই ম্যাচে সিলেটের দেয়া ১৭৩ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে ঢাকা ক্যাপিটালস। ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে পাওয়ার প্লেতেই সাজঘরে ফেরেন ঢাকার টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট পতনে যখন দল হারের শঙ্কায় কাঁপছিল, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি খেলেন এক অনবদ্য ও সাহসী ইনিংস। তার ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন নতুন করে দেখতে শুরু করেছিল ঢাকা। গ্যালারির দর্শকরাও নড়েচড়ে বসেছিলেন নতুন কোনো চমকের আশায়। কিন্তু ক্রিকেট যে শেষ পর্যন্ত দলীয় খেলা, সেটিই আরও একবার প্রমাণিত হলো। সতীর্থদের ব্যর্থতার ভিড়ে শামীমের লড়াকু ফিফটি শেষমেশ বৃথাই গেল। মাত্র ৬ রানের জন্য হেরে যায় তার দল। জয়ের খুব কাছে গিয়েও এভাবে হেরে যাওয়াটা ঢাকার জন্য নিঃসন্দেহে হতাশার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ইনিংস ও দলের হার নিয়ে কথা বলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হেরে গেলে তো অবশ্যই আফসোসটা থাকে। তবে আমার নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল যে যতক্ষণ ক্রিজে থাকব, ততক্ষণ সুযোগ থাকবে। আমি আমার মতো চেষ্টা করেছি।’ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ঢাকার। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১ রান তুলতেই ওপেনার বিদায় নেন। এরপর উসমান খান, সাইফ হাসান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন দ্রুত আউট হলে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দল। সেই কঠিন মুহূর্তে সাব্বির রহমানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন শামীম। তারা ষষ্ঠ উইকেটে ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এরপর শামীম একাই রানের গতি বাড়ান এবং প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হন। তিনি একাই দলকে জয়ের বন্দরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গ পাননি তিনি। কেউ একটু ধরে খেললে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সঙ্গীর অভাবেই মূলত ম্যাচটি হাতছাড়া হয় ঢাকার। সতীর্থদের কাছ থেকে আরেকটু সহায়তার প্রত্যাশা ছিল তার কণ্ঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ একটু সাপোর্ট করত, তাহলে কাজটা অনেক সহজ হতো। সহজেই ম্যাচটা বের করা যেত।’
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিলেট টাইটান্সেরও শুরুটা নড়বড়ে ছিল। অধিনায়ক মিরাজ ও রনি তালুকদার দ্রুত ফিরে যান। তবে সাইম আইয়ুব ও পারভেজ ইমন দলের হাল ধরেন এবং তাদের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। ইনিংসের শেষ দিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ঝোড়ো ব্যাটিং করেন। তিনি মাত্র ২৪ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। বিশেষ করে সালমান মির্জার এক ওভারে তিনি ২২ রান তোলেন। তার এই ইনিংসই সিলেটকে ১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেয়। অন্যদিকে ঢাকার ফিল্ডিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ফিল্ডাররা একাধিক সহজ ক্যাচ মিস করেন। এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে সিলেট বড় স্কোর গড়ে। বল হাতে তাসকিন ও সালমান উইকেট পেলেও প্রচুর রান খরচ করেন; দুজনেই ৪ ওভারে ৪৬ রান করে দেন। তাদের খরুচে বোলিং ও বাজে ফিল্ডিং ঢাকার হারের অন্যতম কারণ। ম্যাচজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল শেষ বল পর্যন্ত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাউন্ডারির প্রয়োজন ছিল। শামীম চেষ্টা করেছিলেন বল সীমানা ছাড়া করতে। কিন্তু প্রতিপক্ষ বোলার দুর্দান্ত বল করায় তা সম্ভব হয়নি। তবে নিজের অফ-ফর্ম কাটিয়ে এমন ইনিংস খেলায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন শামীম। কিছুদিন আগেও তার ব্যাট হাসছিল না, কিন্তু দলের আস্থা ছিল তার ওপর। সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। সামনেই বিশ্বকাপ, তবে জাতীয় দলে নিজের জায়গা বা বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে এখনই খুব বেশি ভাবছেন না তিনি। তার মূল লক্ষ্য এখন বিপিএলে ভালো খেলা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। নিজের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখন যেটা একটা ভালো টুর্নামেন্ট খেলছি, আমার ফোকাস এখানেই। আমি চাই এখানে ভালো করতে। এতে ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য যদি চান্স পাই, তবে ভালো একটা প্রিপারেশন হবে আমার জন্য।’