সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে ফের একটি অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাথের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালত তাকে কুচপুকুরের আনিছুর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জামিন না’মঞ্জুর করেন।
র আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত থেকে অহিদ হত্যা মামলায় জামিন লাভ করেন লায়লা পারভীন সেঁজুতি। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২৫ সালের ২০ মে গভীর রাতে সাবেক এমপি সেঁজুতিকে পুলিশ তার রাধানগরস্থ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
সেসময় তাকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক সংক্রান্ত মিছিলের ঘটনায় জনৈক অলিউর রহমানের দায়ের করা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকাকালিন তাকে বাইপাস সড়কে মৎস্যজীবী দলের নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি সংলগ্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
একইভাবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বাইপাস সড়কে লাঠিসোটাসহ মিছিল ও সরকার পতনের চেষ্টার অভিযোগে জনৈক আব্দুল হামিদ সরদারের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে জিআর-৭৭/২৫ ও জিআর-৯৬ ২৫ নং মামলায় সেঁজুতি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
জিআর-২৭৮/২৫ নং মামলায় গত ৩ জুন তিনি মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলে ১০ জুন সাতক্ষীরা আদালত থেকে তার জামিননামা সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজে আবেদন করলে গত ১৬ জুন তা নো অর্ডার হয়। তবে তার আগেই জামিন স্থগিতের একটি চিঠি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠান। ফলে সুপ্রিম কোর্টে জামিনাদেশ স্থগিত না হলেও ১০ জুন পাঠানো জামিননামা কার্যকর করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সেঁজুতিকে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ ধুলিহরের অহেদ আলীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী পারুল বেগমের দায়েরকৃত মামলায় গত ১৩ জুন গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। ওই মামলায় সাতক্ষীরা দায়রা জজ মো. নজরুল ইসলামের আদালত গত ২৫ জুন তাকে জামিন দেন। জামিননামা ওইদিন জেলখানায় পাঠানো হলেও তার ২৭৮/২৫ নং মামলায় জামিননামার কার্যক্রম কারাগারে ঝুলে থাকে। এর বিরুদ্ধে সেঁজুতির আইনজীবীরা রোববার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করলে তিনি কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এরপরই সেঁজুতির স্বজন ও আইনজীবীরা জানতে পারেন যে, তাকে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে শহরতলীর কুচপুকুরের অজিহার মোড়লের ছেলে আনিছুর অপহরণ ও হত্যা মামলায় (জিআর-৪০২/২৪ সদর) সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়।
সোমবার (২৯ জুন) এ মামলায় আদালত তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে।
এ ব্যাপারে আনিছুর রহমান হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশান সোমবার সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেজুঁতির জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।











































