মিলি রহমান।।
বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, শুধু মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু বাস্তবে যারা কখনো অ্যালকোহল পান করেন না, তাদেরও এই রোগ হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও স্থূলতা এর অন্যতম কারণ।
ফ্যাটি লিভার কী?
ফ্যাটি লিভার হলো এমন একটি অবস্থা, যখন লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। সাধারণত লিভারে সামান্য চর্বি থাকা স্বাভাবিক। তবে লিভারের মোট ওজনের ৫ শতাংশের বেশি চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।
ফ্যাটি লিভার হওয়ার প্রধান কারণ————-
১. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা : যাদের ওজন বেশি বা পেটের মেদ বেশি, তাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অনেক বেশি। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি লিভারেও জমতে থাকে।
২. অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া : কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে।
৩. ডায়াবেটিস : বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার খুবই সাধারণ। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
৪. রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকা : রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বেড়ে গেলে তা লিভারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম না করা : অলস জীবনযাপন ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ।
৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান : অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. কিছু ওষুধ ও অন্যান্য রোগ : দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা কিছু হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
প্রাথমিক অবস্থায় অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে—
১. ডান পাশের ওপরের পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।
২. অতিরিক্ত ক্লান্তি।
৩. দুর্বলতা।
৪. ক্ষুধামন্দা।
৫. ওজন কমে যাওয়া (গুরুতর ক্ষেত্রে)।
কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
১. স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান।
২. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৬. অ্যালকোহল পান করলে তা পরিহার বা সীমিত করুন।











































