সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান।
বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক এবং ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০টি ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯টি বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, দুই বোতল লিকুইড সিসা এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা। এছাড়া ৭২ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল রাসায়নিকও ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মাদক একটি সামাজিক মহামারি। এটি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে।










































