স্টাফ রিপোর্টার||
অপরহরণ মামলার তদন্তে গিয়ে চার মাস আগে নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার মস্তকবিহীন মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত ও হত্যাকারী মো: লালন গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার শিকার ওই নারীর নাম সালেহা বেগম। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার সাজিয়ারা গ্রামের মজিদ ফকিরে স্ত্রী। চলতি বছরের ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটার ঝপঝপিয়া নদী থেকে ওই মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পিবিআই জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসের দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়ারা গ্রামের মজিদ ফকিরের ছেলে শামিম ফকির (৩০) তাঁর মা সালেহা বেগমের অপহরনের অভিযোগ তুলে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামী করা হয় একই গ্রামের মো. লালন গাজীকে। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত পায় পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন সংস্থাটির খুলনা জেলার ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রেজোয়ান। তিনি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারেন ভিকটিম সালেহা বেগম দীর্ঘদিন পিরোজপুর জেলার ইন্দুকানী থানা এলাকায় অবস্থান করতেন। সেখানে তিনি মো. লালন গাজীকে নিয়ে চড়াখালী গ্রামের জেসমিন বেগমের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেছেন। গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় মো. লালন গাজী তাঁর মামা বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটার গজালিয়া গ্রামে আসার কথা বলে সাহেলা বেগমকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। তারপর থেকে সালেহা বেগমের সন্ধান মিলছিল না।
তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রেজোয়ান জানান, ওই ঘটনার এর একদিন পর বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ ঝপঝপিয়া নদী হতে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। কিন্তু তার পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুত, ময়না তদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করেন। মৃতদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন ও এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
তিনি জানান, অপরহরণ মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই মৃতদেহে থাকা কাপড় ও ছবি দেখে সালেহার বলে দাবি করেন। পিবিআই তদন্তকালে দেখতে পায় ওই নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর অপহরন মামলার আসামী লালন গাজীও লাপাত্তা। লালন গাজী অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং চালাক প্রকৃতির হওয়ায় তিনি কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো। নিজের পরিবারসহ এলাকার কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখতেন না। এজন্য সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছিল না। অবশেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ জেলার সদরের হালুয়ারঘাট বাজার খেয়াঘাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করলে বেড়িয়ে আসে সালেহা বেগম হত্যা রহস্য।
পিবিআই কর্মকর্তা লালনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানান, সৌদি ফেরত সালেহা বেগম ও লালন গাজী পিরোজপুরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন। লালন একটি মাটি কাটার ভেকু পরিচালনা করতেন। এরমধ্যে তিনি সালেহা বেগমের ব্যাংক থেকে ১৪ লাখ টাকা তুলে নেন। এরপর থেকে সালেহা বেগম তাকে বিয়ে ও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে মামাতো ভাইদের নিয়ে সালেহাকে হত্যা করেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী গত ২৭ ডিসেম্বর বটিয়াঘাটা গজালিয়া গ্রামের আসামির মামাতো ভাইয়ের বাড়ির বসতঘর, রান্নাঘর ও রান্নাঘর সংলগ্ন উঠানের মাটির নিচ হতে সালেহা বেগমের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামালসহ পরিধেয় বস্ত্র জব্দ করা হয়। সোমবার আদালতের মাধ্যমে লালন গাজীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, পিবিআই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সালেহা বেগম অপহরণ ও পরে হত্যা ঘটনাটির তদন্ত করছে। জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের কাজ চলছে।










































