Home খেলাধুলা বিসিবির ১০০ উইকেটের মহাপরিকল্পনা

বিসিবির ১০০ উইকেটের মহাপরিকল্পনা

7


স্পোর্টস রিপোর্টার।।
বিসিবি বোর্ড সভায় দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো বদলে দিতে ‘১০০ উইকেটস ইন ২০২৬’ শীর্ষক একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশজুড়ে খেলার মান বাড়াতে আধুনিক গ্রাউন্ডস ফ্যাসিলিটি নিশ্চিত করা। এই সিজনেই ফতুল্লা, পূর্বাচলসহ বিভাগীয় স্টেডিয়ামগুলোতে শতাধিক নতুন উইকেট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিবি। বগুড়া, রাজশাহী ও খুলনার মতো পুরনো ভেন্যুগুলোকে আধুনিক মডেলে রূপান্তর করে একেকটি ক্রিকেট ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বরিশালের স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


নতুন মাঠ কেনার বদলে বর্তমানে থাকা মাঠগুলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাই এখন বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। গ্রাউন্ডস কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তৃণমূলের ক্রিকেটে গতি ফেরাতে এই মহাপরিকল্পনা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে বোর্ড আশাবাদী। এই প্রকল্প নিয়ে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘আসলে ‘১০০ উইকেটস’-এর প্ল্যানটা হচ্ছে গ্রাউন্ডস ফ্যাসিলিটি ডেভেলপ করা। মাঠ ছাড়া ক্রিকেট আগানো কঠিন। আমরা এই সিজনের মধ্যেই ১০০টির বেশি উইকেট তৈরির চেষ্টা করছি।’


বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, বোর্ড সভায় জেলা লীগগুলো সচল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর মাত্র ১২টি জেলায় খেলা হলেও এবার অন্তত ৪০টি জেলায় লীগ আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে নারী ক্রিকেটের প্রসারে সাবসিডি বৃদ্ধি এবং ‘রাইজিং স্টার অনূর্ধ্ব-২৩’ নামে নতুন টুর্নামেন্ট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। বিসিবিতে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতে সিএফও এবং হিউম্যান রিসোর্স প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিপিএলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইসিসির স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়।


বোর্ড সভায় পূর্বাচল স্টেডিয়াম প্রকল্পের মাটির হিসাব নিয়ে চলমান অনিয়মের তদন্ত নিয়েও আলোচনা হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গ্রাউন্ডস কমিটির বাইরে থেকে অডিট ও ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ দিয়ে এই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সিলেটে জেলা মাঠ ব্যবহারের সমস্যা সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে বোর্ড। বিসিবি পরিচালক মকসুদুল কামাল বাবু জানান, ‘যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগের ক্ষেত্রে বোর্ড প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ও যথাযথ তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সামগ্রিকভাবে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের মাধ্যমেই বিসিবি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।’