Home আঞ্চলিক রাতের বৃষ্টিতে ডিসি কার্যালয়সহ শহর এলাকায় হাঁটু পানি, দুর্ভোগে জনজীবন

রাতের বৃষ্টিতে ডিসি কার্যালয়সহ শহর এলাকায় হাঁটু পানি, দুর্ভোগে জনজীবন

1

মাগুরা প্রতিনিধি।।

টানা এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে মাগুরা শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাজার ও নিম্নাঞ্চলে হাঁটুসমান পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম, যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরো অফিস চত্বর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও দর্শনার্থীদের হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে অফিসে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে আসা মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

শুধু ডিসি অফিসই নয়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশেও বৃষ্টির পানি জমে যায়। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। রিকশা, ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হয়।

ডিসি অফিসে সেবা নিতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তাহলে শহরের অন্যান্য এলাকার অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেয়া উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শিমুল হোসেন জানান, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়া, অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।


শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামের গৃহবধূ রোজিনা বেগম জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। দ্রুত ড্রেন সংস্কার ও আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এ এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক জানান, আমরা নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও কাঙ্ক্ষিত পৌরসেবা পাই না। বৃষ্টি হলেই বউবাজার এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যায়। বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।


এ বিষয়ে মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী জানান, পৌর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য বর্তমানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদী ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।