মিলি রহমান।।
মূত্রথলির বা ব্লাডার ক্যানসার তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও বিশ্বজুড়ে এ রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের মধ্যে এ ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি এবং নারীদের তুলনায় পুরুষরা এতে বেশি আক্রান্ত হন। বিশেষ করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
বিশেষজ্ঞের মতে, ব্লাডার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ ধূমপান। তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে মূত্রের মাধ্যমে বের হওয়ার সময় মূত্রাশয়ের আস্তরণে ক্ষতি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, বয়স, অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং রঙ, রাবার, চামড়া ও বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্লাডার ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা হেমাটুরিয়া। এই রক্ত উজ্জ্বল লাল অথবা কোলার মতো গাঢ় রঙের হতে পারে এবং অনেক সময় জমাট বাঁধা অবস্থায়ও দেখা যায়। এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, তলপেট কিংবা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক সাধারণত প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, সিস্টোস্কোপি, ইমেজিং পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসির পরামর্শ দেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার হয়েছে কি না এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্লাডার ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে বা দীর্ঘদিন মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে তা স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ধূমপান ত্যাগ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্লাডার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও পুরুষদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়, তবুও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এর লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।











































