Home আলোচিত সংবাদ বড় ভূমিকম্প সামলাতে কতটা প্রস্তুত ঢাকা

বড় ভূমিকম্প সামলাতে কতটা প্রস্তুত ঢাকা

3


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প বিশ্বজুড়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি করেছে, তেমনি নতুন করে সামনে এনেছে ঢাকার ভূমিকম্প-প্রস্তুতির বাস্তবতাও। ভূতত্ত্ববিদ ও প্রকৌশলীদের সতর্কবার্তাÑ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশে যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়া এবং ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। অথচ রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই রাজউকের হাতে। অনুমোদনহীন বহুতল ভবনের প্রকৃত অবস্থা এখনও অজানা, আর নগরজুড়ে অপরিকল্পিত নির্মাণ, সংকীর্ণ সড়ক, ঘনবসতি ও দুর্বল অবকাঠামো বড় ধরনের দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। যদিও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বাচলে ৫০ সদস্যের বিশেষায়িত নগর উদ্ধার (ইউএসএআর) দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়েও বিশেষ উদ্ধার দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। একই সময়ে রাজউক জানিয়েছে, শিগগিরই অনুমোদনহীন ছয় তলার ঊর্ধ্বে সব ভবনের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা শুরু হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্নÑ সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পের আগে এসব উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, আর সময় থাকতে ঢাকা আদৌ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে কিনা।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আরবান রিলিজিয়ান প্রজেক্টের আওতায় একটা সমীক্ষা করা হয়েছিল সেখানে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো ছিল বিভিন্ন থানা, হাসপাতাল এবং কয়েকটি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন।

বাংলাদেশ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০২৫ এ একটা ধারা যুক্ত করে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। ঢাকা শহরে অনুমোদনহীন সব ভবনকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। তারমধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) না মেনে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই যেসব ভবন গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে যেসব ভবন নির্মাণে অধিক ব্যত্যয় ঘটেছে সেগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে। যেগুলো সামান্য ত্রুটি ঠিক করতে পারবে সেগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা দিয়ে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে নতুন বিধিমালা অনুমোদন পেলে।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিএনবিসি কোড মানেনি রাজউকের কোনো অনুমোদন নেই, সেই সব ভবনকে নীতিমালার ভেতরে আনার জন্য বিধিমালা সংশোধন হচ্ছে। খুব শিগগরিই এটা যদি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয় তাহলে রাজউকের অনুমোদনহীন ৬ তলার উর্ধ্বে সব ভবনের সমীক্ষা করা হবে। যেগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো ভেঙে ফেলা হবে। অনুমোদনহীন সব ভবনের দৃশ্যমান পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করা হবে, তখন বেরিয়ে আসবে কোনটা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কোনটা কম ঝুঁকিপূর্ণ। তখন ভবন মালিকদের চিঠি দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিকম্পের টাইম সার্কেল অনুযায়ী ৭ বা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে। ঢাকায় এই মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাতে প্রায় ৩-৪ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটতে পারে। ভেনিজুয়েলার মোট জনসংখ্যা (সবশেষ ২০২৩ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী) ৩ কোটি ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৬০। দেশটির আয়তন ৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৪ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো প্রায় ৮টি দেশের সমান। গত ২৪ জুন ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার জোড়া ভূমিকম্পে গতকাল সোমবার পর্যন্ত মৃত্যু ছড়িয়েছে ১৪৫০ জনে; এখনও নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। আহত অন্তত ৩১৫০ জন। গৃহহীন হয়েছে ১২৭২১ জন, ৭৭৪টি ভবন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেনিজুয়েলার পুরো দেশে যত লোকের বসবাস তার প্রায় কাছাকাছি লোকের বসবাস ঢাকাতেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে ঢাকায় ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার ভূমিকম্প হলে কতটা ভয়বহ হতে পারে?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।

এর পেছনের কারণ ব্যাখা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি চক্র বা ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর আসে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৭৬২ সালে আরাকানে ৮ বা এর কাছাকাছি মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.১ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প হয়েছিল। সে হিসেবে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো এখনই আঘাত হানবে না, কারণ সেই পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত হতে আরও সময় লাগবে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, ৭ বা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে।

জাইকা এবং সিডিএমপি’র একটি জরিপে উঠে এসেছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। কিন্তু এই ৭২ হাজার ভবন কোনগুলো, তা নির্দিষ্ট করা নেই।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ড্যাপের সবশেষ তথ্যানুযায়ী ঢাকায় মোট বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে প্রায় ২১ লাখ। তারমধ্যে মধ্যে ১৫ লাখই ছোট ভবন। এই পরিসংখ্যান ২০২২ সালের। বর্তমানে এখন ২৫-৩০ লাখের মতো ভবন রয়েছে বলে জানা গেছে। টিনশেড বা বস্তি, যা ভেঙে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা কম। কিন্তু ৬ লাখের বেশি বহুতল পাকা দালান (৪ তলার ঊর্ধ্বে) রয়েছে, যেগুলোর ৪০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ।

রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজউক নিজ উদ্যোগে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন করে না। জাইকার আরবান রিলিজিয়েন্ট প্রজেক্টের আওতায় একটা সমীক্ষা করেছে। রাজধানীর কোথাও কোনো ভবন হেলে পড়লে বা ফাটল দেখা দিলেই কেবল রাজউক সেটাকে নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এর বাইরে ঢাকার কোনো ভবনে নিয়ে রাজউকের কাজ করা নেই।

বাংলাদেশের আশপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় চ্যুতি বা ফল্ট লাইন রয়েছে। তার মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ইন্ডিয়া বর্ডার পর্যন্ত প্রায় ৭২ কিলোমিটার লম্বা ‘ডাউকি ফল্ট’ অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া প্লেট বাউন্ডারি-১ (আরাকান ফল্ট), প্লেট বাউন্ডারি-২ (নোয়াখালী থেকে সিলেট) এবং প্লেট বাউন্ডারি-৩ (সিলেট থেকে কাছাড়) একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ফল্ট রয়েছে।

ভূমিকম্প হলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এ প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বাচলে ৫০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত উদ্ধার দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা বড় ধরনের ভবনধস ও নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষিত। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ফায়ার স্টেশনের নিজস্ব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন উদ্ধারকাজ ব্যাহত না হয়, সেজন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে কন্টেইনারের মাধ্যমে উদ্ধার সরঞ্জাম বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।

সংস্থাটি থেকে জানানো হয়, ফায়ার সার্ভিসের ইউনিফর্মধারী সদস্যই ভূমিকম্প ও ভবনধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত। পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক বিভাগে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি করে স্পেশাল রেসকিউ টিম (এসআরটি) গঠন করা হয়েছে। ফলে বিভাগীয় পর্যায়ে বর্তমানে ৮টি বিশেষায়িত উদ্ধার দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের প্রশিক্ষিত জনবল যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত মোতায়েন করা যায়

চলতি বছরে বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পগুলো এবং ঢাকা থেকে উৎপত্তি স্থানের দূরত্ব

গত ২২ জুন ঢাকার ১৬ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। তার আগে ১৮ জুন ঢাকার ৩৬১ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার, ১১ জুন ২৯০ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ৯ জুন ২৮০ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ৭ জুন ঢাকার ৪৩২ কিলোমিটার দূরে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার মাঝারি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর আগে ২৬ মে ঢাকার ৬১ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার, ১৯ মে ১৪৬ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এবং ১১ মে ৫৩৪ কিলোমিটার দূরে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ৯ মে ঢাকার ২৭১ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। এ ছাড়া ২১ এপ্রিল ঢাকার ৪৩৬ কিলোমিটার দূরে পরপর তিনটি ৫ মাত্রার এবং একই দিনে ৩৭৪ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ৭ এপ্রিল ২৫৪ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার এবং ৫ এপ্রিল ৭৯ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ১৭ মার্চ ঢাকার ৪০৩ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার এবং ৫ মার্চ ৩৭৭ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। ফেব্রুয়ারিতে ২৭ তারিখ ১৮৮ কিলোমিটার দূরে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার, ২৫ তারিখ ৪৬২ কিলোমিটার দূরে ৫ দশমিক ১ মাত্রার, ২৩ তারিখ ২৫২ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার, ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৩ হাজার ৩৪১ কিলোমিটার দূরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার বড় ভূমিকম্প, ২০ তারিখ ১২৮ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার, ১৯ তারিখ ১৮৭ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার, ১০ তারিখ ২১৪ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার, ৯ তারিখ ২২১ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার, ৩ ফেব্রুয়ারি ৫২১ কিলোমিটার দূরে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ও ১৭৫ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার এবং ১ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে ৪২ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার ও ২০৮ কিলোমিটার দূরে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। জানুয়ারিতে ২৫ তারিখ ৩৩১ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার এবং ২২ জানুয়ারি ২২৩ কিলোমিটার দূরে ২ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

২০২৫ সালে মোট ৩৫টি ভূমিকম্প অনুভূত হয় তার মধ্যে ২৮ মার্চ ঢাকা থেকে ৫৯৭ কিলোমিটার দূরে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তার আগে ৭ জানুয়ারি ৬১৮ কিলোমিটার দূরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার আরও একটি বড় ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প সার্ভিল্যান্স থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকায় যেসব সমস্যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে

ভূমিকম্পের যেহেতু পূর্বাভাস জানা প্রায় অসম্ভব তাই এর ক্ষয়ক্ষতিও অনুমান করা কঠিন। তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা নিয়ে এখনই জোরালো পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকায় একটা তীব্র আকারের ভূমিকম্প হলে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগাপ্রকল্পের কারণে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ফলে উদ্ধারকারী বাহিনী বা যান যন্ত্রপাতি পৌঁছতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হবে। তাছাড়া পুরান ঢাকায় যেখানে বহু বছরের পুরনো ভবন রয়েছে সেখানকার সরু রাস্তায় উদ্ধারকারী বাহন চলার মতো অবস্থাও নেই। ভেঙে পড়তে পারে বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ঢাকার মাঠগুলোর পাশেই বহুতল ভবন যার ফলে ভবন ধসে মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে। যার ফলে বড় বিপর্যয়ের পর মানুষের আশ্রয় দেওয়ার মতো আশ্রয়স্থল খুঁজে পাওয়া দুরূহ হতে পারে।

ভূমিকম্প হলে করণীয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে ভূমিকম্পের সময় কিছু নির্দেশনা জারি করা রয়েছে। তার মধ্যে কম্পন শুরু হলে হুড়োহুড়ি না করে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। ভবনের নিচ তলায় থাকলে দ্রুত বের হয়ে খোলা জায়াগায়, আর ভবনের উপরের তলায় থাকলে কক্ষের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে টেবিল, খাটের নিচে শক্ত কিছু নিচে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে দ্রুত শক্ত কিছুর নিচে যেতে বলা হয়েছে।-আমাদের সময়