মিলি রহমান।।
ওজন কমাতে কেউ ডায়েটিং , কেউ বা আবার নিয়মিত ব্যায়াম করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং আদর্শ ওজন বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম দুটিই প্রয়োজন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভ্যাস নাকি নিয়মিত ব্যায়াম বেশি ভূমিকা রাখে?
অনেকেই আছেন, খাদ্যতালিকা থেকে নিজের পছন্দের ক্যালরিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়ার চেয়ে জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে,যারা শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেছেন তারা অন্যদের চেয়ে অনেক ভালোভাবে ওজন কমাতে পেরেছেন। বিশেষ করে যারা শুধুমাত্র ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমাতে চাইছেন তাদের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।
‘সিস্টেমেটিক রিভিউস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে , যেসব অংশগ্রহণকারী তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেছেন আবার নিয়মিত ব্যায়ামের নিয়ম মেনে চলেছেন, তারা সেইসব অংশগ্রহণকারীদের চেয়ে ভালোভাবে ওজন কমাতে পেরেছেন, যারা তাদের ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়িয়েছেন কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখেছেন।
এছাড়াও, ‘পিয়ারজে’ নামক জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে , যারা তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের অতিরিক্ত ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেশি ছিল।
ব্যায়ামকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যায়াম ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কারণ এটি প্রায়শই ডায়েটের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অনেকের জন্য, জিমে যাওয়ার অর্থ হলো তারা যা খুশি তাই খাওয়ার সুযোগ পায়, কারণ তারা অতিরিক্ত ক্যালোরিগুলো ঝরিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে আসলে ওজন কমে না।
নিয়মিত জিম করলেও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চালানো ঠিক নয় । এতে ওজন কমাতে সাহায্য করবে না, যদি আপনি এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার না খান। নিয়মিত ব্যায়ামের সাথে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয় করতে ব্যর্থ হলে জিমে করা সব পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যাবে।
উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ
আপনি যদি ওজন কমাতে এবং সেই ফলাফল ধরে রাখতে চান, তবে ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা আপনাকে খাদ্যাভ্যাস উন্নত করার এবং একই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য পরামর্শ দেন।











































