Home আঞ্চলিক মোংলায় মামলা তোলানোর হুমকি: আসামিদের জামিনেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাদী ও সাক্ষীরা, থানায়...

মোংলায় মামলা তোলানোর হুমকি: আসামিদের জামিনেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাদী ও সাক্ষীরা, থানায় জিডি

26


স্টাফ রিপোর্টার।।
বাগেরহাটের মংলায় চুরির ঘটনার প্রতিবাদ ও মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। মামলা তুলে নিতে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দিতে এক গৃহবধূ, তার পরিবার ও সাক্ষীদের প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে একদল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যু। আদালত থেকে জামিনে এসেই আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৯ জুন মংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী নারী নাজমা রায়হান (৪৫)।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, মংলা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড মাছমারা এলাকার মোঃ রাজা মিয়া হাওলাদারের মেয়ে নাজমা রায়হানের বাড়িতে গত ১৪ এপ্রিল চুরির ঘটনা ঘটে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ জুন রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আসামিরা ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তারা নাজমা রায়হানের ২৫ বছর বয়সী ছেলে সানিকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করে। পরদিন এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় নাজমা রায়হানকেও মারধর, শ্লীলতাহানি ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এই নৃশংসতার পর নাজমা রায়হান বাদী হয়ে মংলা থানায় মানিক তালুকদার, তারেক বেপারী ও রিঙ্কু হালদারসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৩, তারিখ: ২৬/০৬/২০২৬ ইং)।

ভুক্তভোগী নাজমা রায়হান অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর ১, ২ ও ৩ নং আসামি আদালত থেকে জামিন লাভ করেই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ২৯ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তারা অপর সহযোগী ৪নং আসামি মিজান হাওলাদারকে (৪০) সাথে নিয়ে নাজমা রায়হানের বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশী হালিম হাওলাদারসহ স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরকেও প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আসামিদের এমন বেপরোয়া আচরণে কোনো উপায় না পেয়ে ওই দিনই (২৯ জুন) মংলা থানায় পুনরায় জিডি করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১ নং আসামি মানিক তালুকদার একজন ধর্ষণ মামলার আসামি এবং তার মা তারা বেগম (৬৫) এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী, যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও আদালতের সাজা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রভাবশালী চক্রটি নাজমা রায়হানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ জিনিসপত্র বা মাদক রেখে পুলিশ দিয়ে ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত করছে বলে বিভিন্ন মারফত জানা গেছে।

জামিন পেয়ে আসামিরা পুনরায় বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ায় পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিষয়ে মংলা থানা পুলিশ জানায়, জিডি মূলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।