স্টাফ রিপোর্টার।।
পুলিশের কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। গত ২৫ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কঠোর পুলিশি নজরদারির কারণে কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারলেও, জুলাইয়ের প্রথম দিনেই (১ জুলাই) নগরীর ব্যস্ততম সড়কে এই মিছিল বের করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগা দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য মহড়ায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ভূমিকা নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল ও সূত্রগুলোর দাবি, পুলিশের চরম উদাসীনতা ও রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়েই নিষিদ্ধ সংগঠনটি এই দুঃসাহস দেখিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ১ জুলাই ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে থেকে ফুল মার্কেট পর্যন্ত খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি থেকে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”, “শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে”, “অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন” সহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের মিছিলটি পর্দার আড়াল থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন খুলনার কয়েকজন চিহ্নিত গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী এবং সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের কথিত এপিএস গোপাল চন্দ্র সাহা। তাদেরই সুনির্দিষ্ট ইন্ধনে এই ঝটিকা মিছিলের রূপরেখা তৈরি করা হয়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিলটির সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রণবীর বাড়াই সজল, খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপ সরকার, মৃদুল, খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তায়েজুল ইসলাম তাজ এবং প্রসেনজিৎসহ সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রলীগের কয়েকজন সক্রিয় কর্মী।
এদিকে, নগরীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য মিছিলে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর যেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথা, সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল শেষ করে অনায়াসে চলে গেল, তা নিয়ে কেএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী। বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকলে খুলনার শান্ত পরিস্থিতি আবারও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে খুলনা সদর অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মিছিলকারীদের অনেকে নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে, এছাড়া নেপথ্যে পলিসি মেকারদের নাম পাওয়া গেছে । এদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।











































