স্টাফ রিপোর্টার।।
দৈনিক খুলনাঞ্চলের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় নানা জল্পনা কল্পনা ছাপিয়ে খুলনা ওয়াসার পদায়নকৃত ব্যববস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান যোগদান করেছেন। বুধবার বিকালে তিনি এ পদে যোগ দেন। এখন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন এমডিকে বিভিন্নমহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য নিয়মের বাইরে যেতে অপরাগতা জানিয়েছেন সদ্য যোগদান করা এমডি।
ওয়াসা সূত্রে জানাগেছে, প্রায় একমাস ধরে খুলনা ওয়াসার পদায়নকৃত এমডি হিসাবে যোগদানের ছাড়পত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে আটকে ছিল। এমডি যোগদান ঠেকাতে ওয়াসার এক বোর্ড সদস্য এর নেপথ্যে থেকে কাজ করেন। ওই সদস্য চেয়েছিলেন এমডি নিয়োগের আগে প্রকল্প পরিচালক পদটি চূড়ান্ত করতে। যেখানে তার পছন্দের তালিকায় ছিলেন ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা ও বিগত দিনের খুলনার আলোচিত শেখ বাড়ির ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলাম। তাকে খুলনা ওয়াসার ফেস-২ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে মরিয়া ছিলেন এ বোর্ড সদস্য। কিন্তু ওয়াসার দ্বায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব ড. মনিরুজ্জামানের কাছে সাংবাদিকরা নতুন খুলনার নতুন এমডির যোগদানে বিলম্ব ও বাধার কারণ কী জানতে চাওয়ার পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে তোড়জোড় শুরু হয়।
ওই যুগ্ম সচিব জানিয়েছিলেন, খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলটি খোঁজা হচ্ছে। এ পদে নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। তিনিই (মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান) ২/১দিনের মধ্যে যোগদান করবেন ।
তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সুত্রে জানাযায়, খুলনার নিয়োগ পাওয়া নতুন এমডির যোগদানের ছাড়পত্র ফাইলটি অদৃশ্য ইশারায় ঢিমেতালে চলছিল। এটি সিস্টেমে আটকে দেওয়া হয়।
নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াসা বোর্ডের এক তরুন সদস্যের অপতৎপরতায় ফাইলটি সিস্টেম পড়েছিল। তবে এটি চলছিল খুবই ঢিমেতালে। ওই তরুন বোর্ড সদস্য এমডি নিয়োগের আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের টপকিয়ে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা ও ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলামকে প্রকল্পের পিডি নিয়োগে ব্যাপক তোড়জোড় চালান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সকল তদবির ভেস্তে যায়।
গতকাল বুধবার দুপুরের পরই গত মাসের ৯ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মো: রফিক রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামানকে খুলনা ওয়াসার এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) পদে পদায়নের চিঠি দেন। ৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেন নি। তার যোগদান করার জন্য ছাড়পত্রটি আটকে ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওয়াসা সংক্রান্ত দপ্তরে।
অপর একটি সুত্রে জানাযায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে সদ্য যোগদান করা এমডিকে বিভিন্নমহল থেকে খুলনা ওয়াসার কাঙ্খিত পদ নির্বাহী প্রকৌশলী ফেস-২ প্রকল্পের পিডি হিসেবে মো: রেজাউল ইসলামকে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে নতুন এমডিও তাদের নিয়মের বাইরে কিছু না করতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেন।
সূত্রটি জানায়, পিডি হতে ৪র্থ গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী হতে হবে। কিন্তু মো: রেজাউল করিম ৬ষ্ঠ গ্রেডের। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে বিগত দিনে ডিএমডি প্রকৌশলী মো: কামাল আহমেদ এসিআর দিয়ে গেলেও সম্প্রতি সেই এসিআরের ফাইল দপ্তর থেকে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। নতুন করে তার পক্ষে এসিআর নেওয়ার তোড়জোর চলছে।









































