Home Lead রেলিগেট-নগরঘাট ফেরিঘাটে ইজারাদারের ‘বাঁশকল’: অবৈধ চাঁদাবাজি!

রেলিগেট-নগরঘাট ফেরিঘাটে ইজারাদারের ‘বাঁশকল’: অবৈধ চাঁদাবাজি!

20


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা মহানগরীর রেলিগেট (নগরঘাট) ও দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভৈরব নদীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহন এবং যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত খেয়াঘাট ইজারাদার শেখ আলী আকবর ও তাঁর লোকজন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই তাণ্ডব চালাচ্ছেন। ফেরিঘাটের প্রবেশপথে চেয়ার ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির কারণে খুলনা মহানগরী, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এবং দূরপাল্লার চালকেরা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।


বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে জোরপূর্বক টাকা আদায়: সরেজমিনে রেলিগেট ফেরিঘাটে দেখা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন জুট মিলের কাঁচামাল ও রপ্তানিযোগ্য পণ্যবাহী ট্রাক, লাখোহাটি গ্রাম থেকে সাদা মাছের পোনা পরিবাহী পিকআপসহ শত শত জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন প্রতিদিন এই রুটে পারাপার হয়। কিন্তু ফেরিতে ওঠার আগেই ইজারাদার আলী আকবরের লোকজন রাস্তার মাঝে চেয়ার ও বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখছে। বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল এমনকি ভ্যান-বাইসাইকেল ও সাধারণ যাত্রীরাও এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সরকারি কোনো মূল্যতালিকা ছাড়াই ইচ্ছামতো দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ যাত্রীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।


চালক ও ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ: এসিআই কোম্পানির প্লাস্টিক পাইপ বোঝাই ট্রাকের চালক মো: ইয়াসিন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফেরি পার হওয়ার আগেই রেলিগেট প্রান্তে চেয়ার-বাঁশ দিয়ে আটকে ইজারাদারের লোকজন দুইটা রশিদ ধরিয়ে দিয়ে যাওয়া-আসা বাবদ ১৫০ টাকা কেটে নেয়। আমরা দূরদূরান্ত থেকে আসি, তাই মুখ বুজে সহ্য করি। কথা বললেই মার খেতে হয়।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানান যশোর নওয়াপাড়া থেকে আসা শাহ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাকচালক কিবরিয়া মাতুব্বর। ওদিকে, এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরিতে পার হলেও জোর করে টাকা রাখা হয়, কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। ফলে অফিস থেকে যাতায়াত বিলও তুলতে পারেন না তারা।


সওজ ও বিআইডব্লিউটিএ যা বলছে: নিয়ম অনুযায়ী, খেয়াঘাটের ইজারাদার কেবল ট্রলার বা নৌকায় পারাপার হওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টোল নিতে পারবেন। সওজ বিভাগের ফেরিতে পার হওয়া যানবাহন বা যাত্রীদের ওপর কর বসানোর কোনো এখতিয়ার তাঁদের নেই।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তানিমূল হক স্পষ্ট জানান, “রেলিগেট-নগরঘাট ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারের টাকা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা এই অবৈধ টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারও (ইউএনও) বিষয়টি অবগত আছেন।”


খুলনা বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, “খেয়াঘাটের ইজারাদার শুধু খেয়াঘাটের টাকা নিবেন। ফেরির যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। যদি তারা এটি করে থাকে তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি লোক পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব।”


এদিকে, অভিযুক্ত ইজারাদার শেখ আলী আকবরের সাথে যোগাযোগের জন্য তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, ঘাটটিতে অনতিবিলম্বে প্রশাসনের স্থায়ী পুলিশি পাহারা বসিয়ে এই ‘বাঁশকল’ সিন্ডিকেট চিরতরে উচ্ছেদ করা হোক।