সৈয়দ রানা কবীর।।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশ নিয়েছেন খুলনা মহানগরীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী। কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রীকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন-খুলনার পুলিশ যাদের ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বলে দাবি করছে, তারা কীভাবে অনায়াসে খুলনা থেকে ঢাকা গিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন?

ঢাকার মিছিলে খুলনার যেসব নেত্রী
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঝটিকা মিছিলে খুলনার একাধিক নেত্রী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত হওয়া নেত্রীরা হলেন, খালিশপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা খাতুন লিমা, খানজাহান আলী থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তা বেগম, ২ নং ওয়ার্ড মহিলা লীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জুবাইদা নিলা প্রমূখ। এ ছাড়া খুলনা মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নারী নেত্রীকে সেই মিছিলের সম্মুখভাগে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর খুলনার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের বক্তব্য, বিগত সরকারের আমলে নানা অপকর্মে জড়িত থাকা এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের এই নেত্রীদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না। অথচ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি চড়ে ঢাকায় গিয়ে রাজপথে মিছিল করছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, স্থানীয় থানা পুলিশের সঠিক নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের অভাবের কারণেই এই নেত্রীরা এখনো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক শোডাউন করার সাহস পাচ্ছেন।

যখন দেশজুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে, তখন খুলনা থেকে গিয়ে নেত্রীদের এমন অংশগ্রহণকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সচেতন মহল মনে করছেন, নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে এই সমস্ত পলাতক নেত্রীদের বিরুদ্ধে খুলনার স্থানীয় থানাগুলোর আরও কঠোর ও তৎপর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।









































