Home Lead অবিকল যেন ইউরোপের ভেন্যু: খুলনায় প্রথম বিশ্বমানের কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ উদ্বোধন

অবিকল যেন ইউরোপের ভেন্যু: খুলনায় প্রথম বিশ্বমানের কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ উদ্বোধন

79


ক্রীড়া প্রতিবেদক।।

চারদিকে আকাশচুম্বী বহুতল ভবন। ঠিক তার মাঝখানে, খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে কালো নেটে আবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠের অবিকল রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো সবুজ মাঠ। প্রথম দেখাতেই যে কারও মনে হবে, এটি ইউরোপ বা আমেরিকার বিশ্বমানের কোনো আধুনিক ফুটবল ভেন্যু। খুলনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও চমৎকার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে ‘খুলনা টার্ফ’। খুলনা তথা গোটা বিভাগে প্রথমবারের মতো এমন আধুনিক কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ মাঠ নির্মাণের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা।

কোটি টাকা ব্যয়ে ভিয়েতনামের ঘাস ও ফ্লাডলাইট
সম্প্রতি নগরীর সোনাডাঙ্গা এমএ বারী সড়কের পাশে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই টার্ফের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। খুলনার তিন তরুণ উদ্যোক্তা প্রিন্স, মিম এবং তৌকির যৌথভাবে এই বিশ্বমানের মাঠটি নির্মাণ করেছেন। বাগেরহাট জেলার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে তারা প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল প্রজেক্ট দাঁড় করিয়েছেন।

মাঠটির আধুনিকতা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম থেকে উচ্চমানের কৃত্রিম ঘাস (টার্ফ) এবং চীন থেকে বিশেষ রাবার আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য কোম্পানির মাধ্যমে মাঠের চারপাশে দেওয়া হয়েছে মজবুত নেট। এ ছাড়া নৈশকালীন বা রাতে খেলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ফ্লাডলাইট (এলইডি লাইট)। খেলোয়াড়দের রিফ্রেশমেন্টের জন্য মাঠের পাশেই রাখা হয়েছে আধুনিক সুইমিংপুলের সুব্যবস্থা।

তারকা ফুটবলারদের মিলনমেলা ও প্রশংসা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় ফুটবল ও হকি দলের খেলোয়াড়সহ স্থানীয় পর্যায়ের অনেক ক্রীড়াবিদ উপস্থিত ছিলেন। ইতোমধ্যে জাতীয় দলের একাধিক তারকা এই মাঠে খেলে গেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় আফঈদা খন্দকার বলেন, “খুলনা বিভাগে প্রথম টার্ফ মাঠের উদ্যোগ নেওয়ায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান যুগের তরুণেরা যখন মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তাদের মাঠে ফেরানোর জন্য এটি একটি উপযুক্ত ও দারুণ স্থান।”

একই সুর মিলিয়ে জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের খেলোয়াড় শাহরিয়ার ইমন জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার মাঠ দিন দিন কমে যাচ্ছে। খুলনায় আগে কোনো টার্ফ ছিল না, এটি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।

মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে তরুণদের ফেরানোর চেষ্টা
খুলনা টার্ফের অন্যতম প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তা প্রিন্স মারুফ বলেন, “ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অনেক টার্ফ মাঠ করা হয়েছে। সেসব দেখেই আমি খুলনায় আমার বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে এই উদ্যোগ নিই। শুরু থেকেই আমরা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া ও সহযোগিতা পাচ্ছি।”

খুলনার সব স্তরের ক্রীড়াপ্রেমীরা যাতে এখানে খেলার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রতি ম্যাচের ফি রাখা হয়েছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা মনে করছেন, এই টার্ফ মাঠ খুলনার সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।