স্টাফ রিপোর্টার।।
পুলিশের আগাম তৎপরতা ও কঠোর নজরদারির কারণে খুলনা মহানগরী ও জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বড় ধরনের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। দলটির ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) খুলনার রাজপথে বড় ধরনের শোডাউন ও মিছিলের সুনির্দিষ্ট ছক ছিল। কিন্তু খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কঠোর নজরদারি এবং আগেভাগে ছকটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই গভীর ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছিলেন খুলনার কয়েকজন চিহ্নিত আইনজীবী ও সাংবাদিক, যাদের অর্থায়ন করছিলেন নগরীর এক আলোচিত ভূমিদস্যু।
পুলিশ কর্তার সাথে সাক্ষাৎ, রাতেই ভার্চুয়াল মিটিং! অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে খুলনায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার একজন এজাহারনামীয় আইনজীবী আসামি কেএমপির শীর্ষ একজন কর্মকর্তার সাথে আগেভাগে চতুরতার আশ্রয় নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। গত ২০ বা ২১ জুনের দিকে ওই নেতা পুলিশের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে দেখা করে দাবি করেন, তিনি আর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেই। ভবিষ্যতে তিনি যেন নতুন কোনো মামলায় না জড়ান, সেজন্য পুলিশ কর্তাকে অনুরোধও করেন। কিন্তু নিজের পিঠ বাঁচাতে পুলিশের সাথে এই লোকদেখানো কথা বলেই ওই রাতে তিনি তাঁর বাড়িতে বসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি সফল করতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম-এ মিটিংয়ের আয়োজন করেন।
ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কারা ছিলেন? গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতের মিটিংয়ে দেশ ও সরকার বিরোধী নাশকতার ছক সাজানো হচ্ছিল। মিটিং চলাকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুলনার একজন অত্যন্ত আলোচিত ভূমিদস্যু, খুলনা আইনজীবী সমিতির সাবেক এক শীর্ষ নেতা এবং খুলনার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত দুইজন সাংবাদিক। ২৫ জুনের কর্মসূচির যাবতীয় খরচ ও অর্থের জোগান দেন ওই বিতর্কিত ভূমিদস্যু।
আগেভাগেই তথ্য পায় কেএমপি: পুলিশের একটি দায়িত্বশীল গোপন সূত্র দাবি করেছে, এই পরিকল্পনাকারীদের জুম মিটিং ও নাশকতার ব্লুপ্রিন্টের তথ্য কেএমপির গোয়েন্দা শাখা আগেভাগে পেয়ে যায়। ফলে ২৫ জুন সকাল থেকেই নগরী বা জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের বিশেষ টিম ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পুলিশের এই ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কারণে ফ্যাসিস্ট চক্রটি নগরী বা জেলার কোথাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।
উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইতিপূর্বেই পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে খুলনায় একটি চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। খুলনা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই বিধান চন্দ্র রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, এস এম কামাল হোসেন এবং অ্যাডভোকেট পারভেজ আলম খানসহ আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, আসামিরা ‘তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগ’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’, ‘বিজয় একাত্তর’ ও ‘জয় বাংলা আমার প্রাণ’ নামক বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও জুম অ্যাপস গ্রুপের মাধ্যমে যারা বিগত অন্তরবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। কেএমপির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলে। ওই চক্র আবারো নতুন করে ছক আকঁছেন।
নজরদারিতে আরও কয়েকটি গ্রুপ: নগর পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার ত ম রোকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছে, উল্লিখিত ডিজিটাল গ্রুপগুলো ছাড়াও আরও কয়েকটি নতুন গোপন গ্রুপ খুলে খুলনায় নাশকতার ছক আঁকা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যে খুলনার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত আইনজীবী, সাংবাদিক ও অর্থায়নকারী ভূমিদস্যু পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।










































